তৃণমূলের তহবিল ‘ফ্রিজ’, নজরদারিতে দুই প্রাক্তন বিচারপতি বসাতে পারে হাই কোর্ট
তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আপাতত ‘ফ্রিজ’ অবস্থাতেই থাকছে। তবে অ্যাকাউন্টগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ না করে তার নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানের জন্য দু’জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়োগ করতে পারে কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই ইঙ্গিত মিলেছে।
দলের বিদ্রোহী একাংশের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করার আবেদন জানায়। সেই ফ্রিজ খোলার আর্জি নিয়ে হাই কোর্টে যায় তৃণমূল। বৃহস্পতিবার সেই আবেদনের শুনানিতে আদালত সরাসরি কোনও নির্দেশ দেয়নি।
ওই তিন অ্যাকাউন্টে মোট কত টাকা আছে, তা জানিয়ে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে হলফনামা দিতে ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। আগামী ৯ জুলাই ফের মামলার শুনানি হবে। বিচারপতি বলেন, “নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই অভিযোগে। কারও নাম নেই, কোনও অবৈধ লেনদেনের তারিখ দেওয়া নেই। এত তাড়াহুড়ো কেন করল তদন্তকারী সংস্থা?” দায়ের হওয়া অভিযোগের উদ্দেশ্য এবং সেই অনুযায়ী ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে পুলিশের ‘অতি সক্রিয়তা’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি ও কিশোর দত্ত দাবি করেন, তদন্তের স্বার্থে অ্যাকাউন্ট ‘সিজ’ করা হলেও ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যায় না। ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই দলীয় কর্মীদের বেতন ও অফিসের খরচ মেটানো হয়। বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “অভিযোগ রয়েছে, এই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেনের বিষয়ে। এই সময়ে ব্যবহার হলে ‘ফ্রিজ’ না করে কী ভাবে তদন্ত করবে পুলিশ?”
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, তদন্তে একাধিক বেনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে। বিদ্রোহী বিধায়কের আইনজীবী নীরজকিশন কলের দাবি, ২২০ জনের বেশি সদস্য নিয়ে নতুন কমিটি তৈরি হয়েছে। তহবিলে কার অধিকার থাকবে, সেই সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই এক পক্ষ কী করে কোর্টে আবেদন করতে পারে।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আপাতত অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহারের পরিপ্রেক্ষিতে দু’জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়োগ করতে পারে কোর্ট। তাঁদের তত্ত্বাবধানেই থাকবে অ্যাকাউন্টগুলি। দলের প্রয়োজনে তাঁদের কাছে টাকা তোলার আবেদন করতে হবে। বড় অঙ্কের টাকা তোলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। অর্থাৎ দৈনন্দিন খরচ চললেও বড় লেনদেনে রাশ টানবে আদালত-নিযুক্ত নজরদার।
দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে:* তৃণমূলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবার আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আদালত পর্যন্ত গড়াল। রাজনৈতিক দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চালাতে প্রাক্তন বিচারপতি নিয়োগের প্রস্তাব নজিরবিহীন। ৭ জুলাই ব্যাঙ্কের হলফনামা ও ৯ জুলাই শুনানির উপরই নির্ভর করছে অ্যাকাউন্টের ভবিষ্যৎ।
তৃণমূলের তহবিল ‘ফ্রিজ’ থাকলেও পুরোপুরি অচল হচ্ছে না। আবার অবাধে খরচের সুযোগও থাকছে না। আদালতের নজরদারিতে ‘নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার’-এর পথেই হাঁটতে পারে দল। ৯ জুলাইয়ের শুনানিতেই স্পষ্ট হবে, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের রাশ শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকে — দলের, না আদালত-নিযুক্ত প্রাক্তন বিচারপতিদের।