২৬-এর ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে মাসে ৩০০০ টাকা করে পাবেন। কথা রাখল বাংলার নতুন বিজেপি সরকার। ১ জুলাই থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মোট ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর তথ্য পোর্টালে আপলোড করতে হয়েছে। ১ জুলাই দুপুর ১টা থেকে সরাসরি টাকা ট্রান্সফার শুরু হয়।”
তিনি আরও জানান, গত ৩ জুন প্রথম দফায় পরীক্ষামূলকভাবে ২৭ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছিল। এরপর বাকি আবেদনগুলোর যাচাই ও আপলোডের কাজ শেষ করা হয়। যাচাই শেষে ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদনের মধ্যে প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল হয়েছে। ফলে ১ কোটি ৩০ লক্ষের বেশি আবেদনকারীকে যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হচ্ছে।
এই প্রশ্নেই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ছিল। এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতী রাভা রায়। তিনি বলেন, “আবেদনপত্রে ভুল তথ্য, নথি অসম্পূর্ণ থাকা বা তথ্যের গরমিলের কারণে আবেদন বাতিল হতে পারে। তবে সরকারের লক্ষ্য, শুধু কাগজপত্রের ত্রুটির জন্য কোনও যোগ্য মা-বোন যেন বঞ্চিত না হন।”
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, “যাঁদের নথিতে ভুল রয়েছে, তাঁরা তা সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি নতুন আবেদন জমা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চালু রয়েছে। তাই বাদ পড়া কেউ আর সুযোগ হারাবেন না।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই প্রকল্প নারীদের আর্থিক স্বাধীনতার পথে বড় পদক্ষেপ। যোগ্যরা দেরি না করে আবেদন করুন।”
দফতর সূত্রে জানা গেছে, মূলত তিনটি কারণে ফর্ম বাতিল হয়েছে:
১. ভুল তথ্য: –নাম, বয়স, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর বা আধার নম্বরে গরমিল।
২. অসম্পূর্ণ নথি:– আয় সার্টিফিকেট, স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র বা ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের কপি জমা না দেওয়া।
৩. যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ না করা:–পারিবারিক আয়ের ঊর্ধ্বসীমা পার হয়ে যাওয়া।
সংশোধনের সুযোগ:– বাতিল তালিকায় নাম থাকলে সংশ্লিষ্ট BDO অফিস বা দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে গিয়ে ভুল সংশোধন করে ফের আবেদন করা যাবে।
নতুন আবেদন:–যাঁরা এখনও আবেদন করেননি, তাঁরা অনলাইন পোর্টাল ও অফলাইন ক্যাম্প — দু’ভাবেই ফর্ম জমা দিতে পারবেন।
স্ট্যাটাস চেক:–অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সরকারি ওয়েবসাইটে আবেদন নম্বর দিয়ে বাতিলের কারণ দেখে নেওয়া যাবে।
১ জুলাই থেকে টাকা ঢোকা শুরু হওয়ায় উপভোক্তাদের মধ্যে খুশির হাওয়া। একই সঙ্গে বাতিল হওয়া আবেদনকারীদের জন্য সংশোধন ও পুনরায় আবেদনের পথ খোলা রাখায় বিতর্কের অবকাশ কমল। সরকারের দাবি, ধাপে ধাপে রাজ্যের সব যোগ্য মহিলাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।