রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর প্রথম বাজেট, ডিএ নিয়ে তরজায় সরগরম বিধানসভা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হল সোমবার।
বিধানসভায় দুপুরে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেট পেশের পরেই ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজা চরমে ওঠে।
বাজেট পেশের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য,v—- “এই বাজেটে বিরোধীদের সমালোচনার জায়গা নেই বলেই আমার বিশ্বাস।”
ডিএ নিয়ে খোঁচা-পাল্টা খোঁচা:—
বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এই ঘোষণার পরেই বিজেপি শিবিরের দাবি, — “তৃণমূল ১৫ বছরে ডিএ বাড়িয়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ, আর আমরা ২ মাসেই ২০ শতাংশ বাড়ালাম।” পাল্টা জবাবে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ডিএ দেওয়ার সদিচ্ছা ছিল। কিন্তু রাজকোষের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় ডিএ দেওয়া যাবে, নাকি সামাজিক প্রকল্প চালানো যাবে—সেই ভারসাম্য রাখতে হত। কেন্দ্র বকেয়া মেটালে পরিস্থিতি অন্যরকম হত।”
কটাক্ষ কুণালের:— ‘এটি কেন্দ্র নির্ভর বাজেট!” বাজেটকে ‘স্বনির্ভর বাংলার বাজেট নয়’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর কথায়, — “এটা আসলে কেন্দ্রীয় সরকারের বাংলা-নির্ভর বাজেট।” তবে বাজেটের সরাসরি বিরোধিতা করেনি তৃণমূল। এ প্রসঙ্গে কুণালের বক্তব্য, “আমরা সরকারকে সময় দিতে চাই। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করব না। বাজেটে একাধিক প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে, যার অনেকগুলিই আগের সরকারের ঘোষিত। কিন্তু আয়ের উৎস স্পষ্ট নয়। আজকের বাজেট পুরোপুরি কেন্দ্র-নির্ভর।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে রাজ্য কেন্দ্রের থেকে বহু পুরস্কার পেয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষকে আর্থিক নিরাপত্তা দিয়েছে। আগে কেন্দ্র টাকা দেয়নি। এখন রাজ্য সরকার যদি পায়, সেটা ভালো।” ‘ভালো ঘোষণা কার্যকর হোক, চাই আমরা’।
কুণাল ঘোষের আরো সংযোজন, — “আগে ভাতা নিয়ে ওঁরা অন্য ব্যাখ্যা দিতেন, এখন সেগুলোকেই মান্যতা দিচ্ছেন। আমরা চাই সরকার সময় পাক। ভালো ঘোষণাগুলির বাস্তবায়ন হোক। বিধায়কদের উন্নয়ন তহবিল বাড়ানোর প্রস্তাব ইতিবাচক। তবে বিরোধী বিধায়করাও যেন সেই সুবিধা পান, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।”
গুরুতর ও সুদূরপ্রসারী বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পরে প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে জানান তিনি। প্রসঙ্গত, বাজেটে ডিএ বৃদ্ধির ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মোট মহার্ঘ ভাতার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ শতাংশ, যা সরকারি কর্মীমহলে বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।