_পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কাঠামো ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের বার্তা দিল ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের রাজ্য বাজেট।
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বিধানসভায় পেশ করা বাজেট প্রস্তাবে পাঁচটি নতুন জেলা গঠন, শিলিগুড়ি ও আসানসোল-দুর্গাপুরে মেট্রো পরিষেবা চালু এবং কর্মসংস্থানমুখী একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন।
১. প্রশাসনিক সংস্কার: আসছে পাঁচটি নতুন জেলা:–
_বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত ঘোষণা পাঁচটি নতুন জেলা গঠন। প্রস্তাবিত জেলাগুলির তালিকায় রয়েছে—কলকাতা, বসিরহাট, জঙ্গিপুর, আরামবাগ এবং সুন্দরবন। প্রশাসনের যুক্তি, নতুন জেলা হলে প্রশাসনিক কাজে গতি আসবে। নাগরিক পরিষেবা, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প রূপায়ণ আরও দ্রুত হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জেলাসদরেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন, ফলে হয়রানি কমবে।
২. পরিবহণে বিপ্লব: শিলিগুড়ি ও আসানসোল-দুর্গাপুরে মেট্রো:–
_কলকাতার বাইরে এই প্রথম রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর শিলিগুড়ি এবং আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে মেট্রো রেল চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বাজেটে এর জন্য প্রাথমিক বরাদ্দের কথাও বলা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে অর্থ দপ্তর।
৩. কর্মসংস্থান ও ভাতা:—-
_শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের স্বনির্ভর করতে ‘ভরসা কর্মসূচি’ গ্রহণ করলো রাজ্য সরকার। শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর করতে ‘ভরসা কর্মসূচি’ নামে নতুন ভাতা প্রকল্প চালুর ঘোষণা হয়েছে। প্রকল্পের রূপরেখা পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
_পাশাপাশি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ এক ধাক্কায় বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এই বৃদ্ধির ফলে রাজ্য সরকারি কর্মচারী, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থা, স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের মোট ডিএ বেড়ে দাঁড়াবে ৩৮ শতাংশ।
৪. পরিকাঠামো ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ :—-
_বাজেটে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ী সরকারি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার কথা বলা হয়েছে। প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত ও মজবুত করতে সিন্ডিকেট-তোলাবাজি বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
_শিল্প ও ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ গড়তে সড়ক, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর নির্মাণে জোর দিয়েছে রাজ্য। গ্রামীণ রাস্তা থেকে জাতীয় সড়ক সংযোগ—সব ক্ষেত্রেই বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে, যাতে লগ্নি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।
প্রতিক্রিয়া:—-
_অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন জেলা গঠন ও মেট্রো প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের বিকেন্দ্রীকরণ ও নগরায়ণে সাহায্য করবে। তবে প্রকল্প রূপায়ণের জন্য বিপুল অর্থ ও কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় প্রয়োজন। ডিএ বৃদ্ধিতে কর্মচারী মহলে স্বস্তি ফিরলেও, রাজকোষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছেন অনেকে।
_সামগ্রিকভাবে এই বাজেটকে ‘প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও পরিকাঠামোমুখী’ বাজেট বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, ঘোষণা কত দ্রুত বাস্তবের মাটিতে রূপ পায়।