বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কায় কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা ও পশ্চিম মেদিনীপুরে কমলা সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সল্টলেক, লেকটাউন এলাকায় ইতিমধ্যেই ভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে।
পরবর্তী ২-৩ ঘণ্টার পূর্বাভাস:-
আলিপুর জানিয়েছে, আগামী ২-৩ ঘণ্টায় কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। একইসঙ্গে প্রবল বজ্রপাতেরও আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা:-
১. বজ্রপাত চলাকালীন বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২. জরুরি কাজে বেরিয়ে আটকে পড়লে খোলা মাঠ বা গাছের নীচে দাঁড়ানো যাবে না। পাকা ছাদের নীচে আশ্রয় নিতে হবে।
৩. জলাশয়, জমা জল এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। নদীতে ফেরি পারাপার বা খোলা নৌকায় থাকা বিপজ্জনক।
ব্যাহত তারাতলার উদ্ধারকাজ:-
দুর্যোগের জেরে তারাতলায় গোডাউন ধসের উদ্ধারকাজ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় কাজে বিঘ্ন ঘটছে।
উত্তরবঙ্গেও বিপর্যস্ত জনজীবন:-
নতুন করে ধস নামায় সিকিম-কালিম্পংগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ। সেবকের কাছে বাঘপুল-কালীমন্দির এলাকায় রাস্তার উপর মাটি ও পাথরের স্তূপ জমেছে। ফলে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চললেও স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক ঘণ্টা লাগবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বজ্রপাতে মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ:
আবহাওয়া দফতর বিশেষভাবে বজ্রপাত নিয়ে সতর্ক করেছে। গত কয়েক বছরে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। কয়েকদিন আগেই মাঝনদীতে নৌকার উপর বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তাই খোলা জায়গা এড়িয়ে চলার উপর জোর দিচ্ছেন আবহবিদরা।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, এই দুর্যোগ আরও ২-৩ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।