প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের রদবদল নিয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় সরব হলেন ছয় বিধায়ক।
রাজ্যপালের ভাষণের পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেন কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব, রহিম বক্সী ও রুকবানুর রহমান।
এই ছয়জনই মমতাপন্থী বলে পরিচিত।
বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দলে রদবদল হয়। তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেন, তিনজন নতুন অপরিচিত নিরাপত্তাকর্মীকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
এরপরেই বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনের প্রথম দিন রাজ্যপালের ভাষণের পর মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়ে বৈঠক করেন ছয় বিধায়ক।বিধায়কদের সূত্রে জানা গিয়েছে, নেত্রী মমতার নিরাপত্তার পুরনো দল ফিরিয়ে আনা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এ বিষয়ে কোনও অনুরোধ করতে বলেননি। বিধায়করা নিজেদের উদ্যোগেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা কমানোর যে কথা বলা হচ্ছে, তা একেবারেই ঠিক নয়। জ়েড প্লাস ক্যাটেগরির যে নিরাপত্তা তিনি পেয়েছেন, তা-ই পাচ্ছেন। এক জন নিরাপত্তারক্ষীও কমানো হয়নি।”
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা স্থায়ী নন। আমার পিএসও-রাও স্থায়ী নন। এ ক্ষেত্রে পছন্দের ব্যক্তিদের রাখার কথা বলা হচ্ছে, যা সরকারি কোনও ব্যবস্থায় মিলবে না। সরকারি ব্যবস্থায় নিজের পছন্দের লোক পাওয়া যায় না।”
নিয়ম অনুযায়ী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ়েড প্লাস নিরাপত্তা পান। নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়মিত রোটেশন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা প্রোটোকলের অংশ। তবে নতুন কর্মী নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের মমতাপন্থী বিধায়করা। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার মান বা সংখ্যায় কোনো হেরফের হয়নি, শুধু কর্মী বদল হয়েছে।
বিধানসভার প্রথম দিনই এই ইস্যুতে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।