.গ্রীষ্মের দাবদাহে বিদ্যুতের বিল দেখে যখন মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে, ঠিক তখনই আমআদমির পকেটে স্বস্তি ফেরাতে অভিনব উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: মুফ্ত বিজলি যোজনা’র আওতায় এবার বাড়ির ছাদেই সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুযোগ পেতে চলেছেন রাজ্যবাসী।
.আসুন দেখে নেওয়া যাক কী কী সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা, কোথায় বসাবেন এই প্লেট ?
.রাজ্য বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে আবেদন করলে উপভোক্তারা সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারি ভর্তুকি পাবেন। ১ কিলোওয়াট সোলার প্যানেল বসালে ৩০,০০০ টাকা, ২ কিলোওয়াটে ৬০,০০০ টাকা এবং ৩ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার প্যানেলে সর্বোচ্চ ৭৮,০০০ টাকা ভর্তুকি মিলবে। এর ফলে প্রাথমিক খরচ অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসালে দিনের বেলায় সেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। সেই বিদ্যুৎ প্রথমে বাড়িতেই ব্যবহার হবে।
.ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চলে যাবে গ্রিডে। মাসের শেষে গ্রিডে পাঠানো ও গ্রিড থেকে নেওয়া বিদ্যুতের হিসেব করে বিল তৈরি হবে। ফলে অনেকের ক্ষেত্রেই মাসিক বিদ্যুৎ বিল শূন্য হয়ে যাবে বা নামমাত্র আসবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
.রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ দপ্তর এবং অপ্রচলিত ও নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস বিভাগের যৌথ উদ্যোগে রাজ্যজুড়ে এই প্রকল্প রূপায়ণের কাজ জোরকদমে শুরু হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে রাজ্যের ১০ লক্ষ বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, ধীরে ধীরে সমস্ত পরিবার এই সুবিধা পাবেন। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল কমবে, অন্যদিকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপর চাপ কমায় পরিবেশ দূষণও কমবে।
.এবার দেখে নেওয়া যাক কীভাবে, কোথায়, কেমন করে আবেদন করবেন —
.আগ্রহী গ্রাহকরা pmsuryaghar.gov.in পোর্টালে গিয়ে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের জন্য লাগবে বিদ্যুৎ বিলের কনজিউমার নম্বর, মোবাইল নম্বর ও আধার।
.আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির তালিকাভুক্ত ভেন্ডরের মাধ্যমেই প্যানেল বসাতে হবে। প্যানেল বসানো ও নেট মিটার চালু হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ভর্তুকির টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে।বিদ্যুৎ দপ্তরের এক কর্তা বলেন, “গরমে এসি, ফ্যান চালিয়ে বিল বেড়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। এই প্রকল্পে একবার সোলার বসালে ২৫ বছর পর্যন্ত নিশ্চিন্ত। আমরা চাইছি প্রতিটি বাড়ি বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বনির্ভর হোক।”এই প্রকল্প নিয়ে জেলায় জেলায় সচেতনতা শিবিরও শুরু করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।