_”আমি বাংলাকে ভালবাসি / এই বাংলার বুকে যুগে যুগে যেন, ঘুরে ফিরে আমি আসি!”_ — অলকেশ মাইতি
.সূচনা:-_আমার চোখে পশ্চিমবঙ্গ মানে শুধু ভারতের মানচিত্রে আঁকা এক টুকরো ভূখণ্ড নয়। এ হল আমার শৈশবের প্রথম বর্ণপরিচয়, যৌবনের প্রথম প্রেম, বার্ধক্যের শেষ আশ্রয়। এ হল আবেগ, ঐতিহ্য আর বৈচিত্র্যের এক জীবন্ত ক্যানভাস। হিমালয়ের কোলে দার্জিলিংয়ের কুয়াশা মাখা সকাল থেকে বঙ্গোপসাগরের তীরে দীঘার উত্তাল ঢেউ — এই রাজ্যের প্রতিটি ধুলোয় মিশে আছে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর সংগ্রামের গল্প। ভূগোলের পাতায় এর আয়তন ৮৮,৭৫২ বর্গকিলোমিটার হতে পারে, কিন্তু আমার হৃদয়ের মানচিত্রে এর বিস্তার অসীম। আমার একটি আবেগের নাম আমার পশ্চিমবঙ্গ।
১. প্রকৃতির রঙে রাঙা বাংলা: বৈচিত্র্যের স্বর্গ:—–_
আমার রাজ্যের মতো প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ভারতের আর কোন রাজ্যে এমন করে নেই। এক রাজ্যের সীমানার মধ্যেই পাহাড়, জঙ্গল, নদী, সমভূমি, সমুদ্র — প্রকৃতির সব রূপ যেন এখানে এসে মিশে গেছে।
.উত্তরবঙ্গের মোহময় হাতছানি:
_হিমালয়ের কোলে দাঁড়িয়ে আছে অপরূপা সুন্দরী দার্জিলিং। ভোরের টাইগার হিল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফঢাকা চূড়ায় যখন প্রথম সূর্যের আলো পড়ে, তখন মনে হয় স্বর্গ বুঝি এখানেই। কালিম্পং, কার্শিয়াং, মিরিকের পাহাড়ি পথ, কমলালেবুর বাগান, আর দিগন্তজোড়া চা-বাগানের সবুজ গালিচা মন কেড়ে নেয়। তার পরেই ডুয়ার্সের গভীর জঙ্গল — গরুমারা, জলদাপাড়া, বক্সা। সেখানে একশৃঙ্গ গন্ডার, হাতি, বাইসন, ময়ূরের অবাধ বিচরণ। তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, মহানন্দার কলতান পাহাড় থেকে সমতলে নেমে এসে প্রাণ জুগিয়েছে গোটা উত্তরবঙ্গকে।
.মধ্য বঙ্গের শস্য-শ্যামলা রূপ বৈভব:
_মালদা, মুর্শিদাবাদের আমের বাগান পেরিয়ে গঙ্গার দুই তীরে নেমে এলেই শুরু হয় রাঢ় বাংলার উর্বর সমভূমি। নদীয়া, বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া — ধান, পাট, আলু, সবজিতে ভরা মাঠ। এই মাটিই তো বাংলাকে ‘সোনার বাংলা’ নাম দিয়েছে। শান্তিনিকেতনের লালমাটি, কোপাই নদীর তীর, খোয়াইয়ের ক্যানিয়ন — কবির কল্পনাকে বাস্তব করে তোলে। অজয়, দামোদর, ময়ূরাক্ষীর জলেই তো লালিত হয়েছে বাংলার গ্রামীণ সভ্যতা।
.দক্ষিণবঙ্গের রহস্যময় বিশালতা:
_আরও দক্ষিণে গেলে সুন্দরবন। পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ ও ম্যানগ্রোভ অরণ্য। সেখানে জলে কুমির, ডাঙায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, আর গাছে গাছে মৌমাছির চাক। গোলপাতা, সুন্দরী, গরান গাছের জঙ্গলে নৌকা ভাসিয়ে মাছ-কাঁকড়া ধরাই এখানকার মানুষের জীবিকা। তার পরেই বঙ্গোপসাগর। দীঘা, মন্দারমণি, তাজপুর, বকখালির বেলাভূমিতে আছড়ে পড়ে উত্তাল ঢেউ। এই হল আমার বাংলা — একই অঙ্গে এত রূপ।
২. সংস্কৃতির পীঠস্থান: হাজার বছরের ঐতিহ্য:—
_আমার চোখে পশ্চিমবঙ্গ হল ভারতের সংস্কৃতির রাজধানী। এই মাটিতেই জন্ম নিয়েছে এমন সব প্রতিভা, যাঁরা গোটা বিশ্বকে পথ দেখিয়েছেন।
.সাহিত্য ও সংগীতের স্বর্ণখনি:
_চর্যাপদ থেকে শুরু করে মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলী হয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দেমাতরম্’, মাইকেলের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, রবীন্দ্রনাথের ‘গীতাঞ্জলি’, শরৎচন্দ্রের কালজয়ী উপন্যাস, নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা, জীবনানন্দের রূপসী বাংলা — বাংলা সাহিত্য বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লোকগীতি, বাউল, ভাটিয়ালি, কীর্তন — বাংলার গান মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী। এই মাটিতেই তো জন্ম নিয়েছেন রবিশঙ্কর, আলি আকবর খাঁ, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, লতা মঙ্গেশকরের মতো কিংবদন্তি।
.শিল্প ও চলচ্চিত্রের নিরন্তর গৌরব:
_কুমোরটুলির মাটির প্রতিমা যখন দুর্গাপুজোয় প্রাণ পায়, তখন সারা বিশ্ব তাকিয়ে দেখে। বিষ্ণুপুরের টেরাকোটা মন্দির, কালীঘাটের পটচিত্র, মুর্শিদাবাদের রেশম, বাঁকুড়ার ডোকরা, কৃষ্ণনগরের মাটির পুতুল — বাংলার হস্তশিল্পের খ্যাতি জগৎজোড়া। আর চলচ্চিত্র? সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন, তপন সিংহ — এঁরা ভারতীয় সিনেমাকে অস্কারের মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন। ‘পথের পাঁচালী’ দেখে বিশ্ব জেনেছে গ্রামীণ বাংলার হৃদস্পন্দন।
.উৎসবের মিলনমেলা:
_দুর্গাপুজো শুধু উৎসব নয়, বাঙালির আবেগ। ঢাকের বাদ্যি, ধুনুচি নাচ, প্যান্ডেল হপিং, নতুন জামা — পাঁচটা দিন গোটা বাংলা উৎসবের রঙে রঙিন। পয়লা বৈশাখের হালখাতা, দোলের রঙ, রথের মেলা, জন্মাষ্টমী, কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো — হিন্দু উৎসবের পাশাপাশি ঈদের কোলাকুলি, মহরমের তাজিয়া, বড়দিনের কেক, বুদ্ধপূর্ণিমা — সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আনন্দ করে। এই সম্প্রীতিই বাংলার ইউএসপি।
৩. ইতিহাসের সাক্ষী: নবজাগরণ থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম:—–_এই বাংলা হলো ভারতীয় নবজাগরণের সূতিকাগার। অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজকে আলোর পথ দেখিয়েছেন এই বাংলারই মনীষীরা।
.নবজাগরণের আলোকবর্তিকা:
_রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা রদ করে নারীকে নতুন জীবন দিলেন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহ চালু করে, বর্ণপরিচয় লিখে বাংলার ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ‘যত মত তত পথ’-এর বাণী শোনালেন। স্বামী বিবেকানন্দ শিকাগো ধর্মমহাসভায় ভারতের বেদান্ত দর্শনকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরলেন। জগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, মেঘনাদ সাহা, সত্যেন্দ্রনাথ বসু বিজ্ঞান সাধনায় বাংলাকে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান দিলেন।
.স্বাধীনতার রক্তাক্ত ইতিহাস:
_পরাধীনতার শিকল ভাঙতে এই বাংলার দামাল ছেলেরাই সবার আগে প্রাণ দিয়েছে। মাস্টারদা সূর্য সেনের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসির মঞ্চে ‘হাসি হাসি পরব ফাঁসি’, প্রফুল্ল চাকীর আত্মবলিদান, বিনয়-বাদল-দীনেশের রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণ, মাতঙ্গিনী হাজরার ‘ইংরেজ ভারত ছাড়ো’ ধ্বনি দিতে দিতে গুলিবিদ্ধ হওয়া — বাংলার প্রতি ইঞ্চি মাটি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের রক্তে ভেজা। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ‘দিল্লি চলো’ ডাক দিয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজ গড়ে ব্রিটিশদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।
.১৯৪৭: পশ্চিমবঙ্গের জন্ম:
_১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছিল বাংলা। ‘অখণ্ড স্বাধীন বাংলা’র নামে পুরো বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার ষড়যন্ত্র চলছিল। সেই চরম মুহূর্তে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রুখে দাঁড়ালেন। তিনি বুঝেছিলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ স্বাধীন বাংলায় হিন্দুরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে যাবে। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, জনমত গঠন ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার ফলেই ২০শে জুন ১৯৪৭ সালে বঙ্গীয় আইনসভায় ভোটাভুটিতে বাংলা ভাগ হয়। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যায়। তাঁর জন্যই আজ আমরা ভারতীয় পরিচয়ে বাঁচতে পারছি। তাই ২০শে জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ শুধু একটি তারিখ নয়, বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার গৌরবময় দিন।
৪. সংগ্রামী মানুষের রাজ্য: বাংলার আসল শক্তি:—_আমার চোখে বাংলার সবচেয়ে বড় সম্পদ হল এর মানুষ। এই মাটির মানুষের মতো লড়াকু, আবেগপ্রবণ, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি খুব কম আছে।_বন্যায় ভেসে যায় ঘরবাড়ি, খরায় ফেটে যায় মাঠ, আয়লা-আমফান-ইয়াসের মতো ঝড় লন্ডভন্ড করে দেয় সুন্দরবন — তবু বাংলার চাষি আবার নতুন করে ধান রোয়। কারখানার শ্রমিক সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘাম ঝরিয়ে সংসার চালায়। ফুটপাতের হকার, রিকশাচালক, মৃৎশিল্পী, তাঁতী — এঁদের অদম্য মনোবলই বাংলার আসল শক্তি।_বাঙালি আড্ডাপ্রিয়, তর্কপ্রিয়। চায়ের দোকানে রাজনীতি থেকে ফুটবল, সাহিত্য থেকে সিনেমা — সব বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলবে। আবার এই বাঙালিই বিপদের দিনে জাতি-ধর্ম ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। রক্তদান শিবিরে লাইন, বন্যাত্রাণে সাহায্য, পাড়ার কারও বিপদে রাত জাগা — এটাই তো বাংলার সংস্কৃতি। অতিথিকে ভগবান জ্ঞান করা, ‘আসুন, বসুন, জল খান’ বলা — এই আতিথেয়তা বাংলাকে আলাদা করেছে।
৫. আজকের পশ্চিমবঙ্গ: সমস্যা ও সম্ভাবনা:—-_হ্যাঁ, এটা ঠিক যে আমার রাজ্য আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। বেকারত্ব যুবসমাজকে হতাশ করছে। নব্বইয়ের দশকের পর থেকে বৃহৎ শিল্পে ভাটা পড়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ঘাটতি মাঝে মাঝে কষ্ট দেয়।
২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আমার রাজ্যে সরকারি চাকরির পরীক্ষা খুব একটা হয়নি। প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। ২৬ -এর মে মাসে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের পতন হয়েছে, এসেছে বিজেপি পরিচালিত নতুন সরকার। মানুষ বিগত ১৫ বছরের অন্ধকার সরিয়ে রেখে নতুন সরকারের কাছে আলোর প্রত্যাশা করছেন।
_তাই আশার আলো আমরা নিভে যেতে দিইনি। যদিও তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ, নিউটাউন নতুন দিশা দেখাচ্ছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, হস্তশিল্প, পর্যটন ক্ষেত্রে বাংলা এগোচ্ছে, দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ‘হেরিটেজ’ তকমা পেয়েছে, যা বাংলার অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে, তবুও আমরা শিল্পে জোয়ার চাইছি, চাইছি রাজ্যের ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থা সহ শিল্প সংস্কৃতির অভাবনীয় উন্নতি।
_রাজ্য সরকারের ছাত্রীদের কন্যাশ্রী প্রকল্প, সবুজ সাথী সাইকেল প্রকল্প, গ্রামের ছেলে মেয়েদের ক্ষমতায়ন করেছে, আয়ুষ্মান ভারত ( পূর্বে — স্বাস্থ্য সাথী ) গরিব মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ দিচ্ছে। অন্নপূর্ণা ভান্ডার ( পূর্বে — লক্ষ্মীর ভান্ডার ) মহিলাদের হাতে সরাসরি টাকা পৌঁছে দিচ্ছে। কলকাতা মেট্রোর নতুন রুট, গ্রামে গ্রামে পাকা রাস্তা, জল স্বপ্ন প্রকল্পে ঘরে ঘরে জল , — উন্নয়নের ছোঁয়া লাগছে সর্বত্র। ডানকুনি, হাওড়া, হলদিয়ায় নতুন শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
৬.আমার গর্ব, আমার অহংকার:—
_আমার চোখে পশ্চিমবঙ্গ মানে মায়ের আঁচলের মতো নিরাপদ আশ্রয়। কবির ভাষায়, “এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি”। রসগোল্লা-সন্দেশের মিষ্টতা, ইলিশ-চিংড়ির স্বাদ, ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের ফুটবল উন্মাদনা, কলেজ স্ট্রিটের বই পাড়া, গঙ্গার ধারে প্রেম, মিছিলের স্লোগান, প্রতিবাদের ভাষা — সব মিলিয়েই আমার বাংলা। এই রাজ্য আমাকে শিখিয়েছে মাথা উঁচু করে লড়তে, সবাইকে ভালোবাসতে, নতুন স্বপ্ন দেখতে। হাজারো ত্রুটি, রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও এই মাটির সোঁদা গন্ধ, এই ভাষার টান, এই মানুষের আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা পৃথিবীর আর কোথাও পাব না।
.উপসংহার:—–_তাই শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে বলতে চাই — আমি গর্বিত, আমি পশ্চিমবঙ্গবাসী। আমি আরও গর্বিত যে, আমি আমার রাজ্যকে মায়ের মতো ভালবাসি। জন্ম জন্মান্তরেও যেন এই বাংলার বুকেই ফিরে আসি। কারণ কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বলে গেছেন, “ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা / তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা” — সে আমার বাংলা, আমার পশ্চিমবঙ্গ। _____ সমাপ্ত ____