প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী অপসারণ বিল’: ফের সংবিধান সংশোধনের প্রস্তুতি কেন্দ্রের, বিরোধীদের কটাক্ষ — ‘বিরোধী শাসিত রাজ্য টার্গেট’
গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত হলে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পদ থেকে সরাতে ফের সংবিধান সংশোধনের পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় সরকার। ‘প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী অপসারণ বিল’ নামে এই সংশোধনী বিল সংসদের চলতি বাদল অধিবেশনেই পেশ হতে পারে বলে সংসদীয় সূত্রে খবর। বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিলের আসল লক্ষ্য বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির সরকার ফেলে দেওয়া।
প্রস্তাবিত বিলে কী আছে ?
সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনীতে বলা হয়েছে:
১.যদি কোনও প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ৫ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডযোগ্য ফৌজদারি মামলায় চার্জশিট দাখিল হয় এবং তিনি টানা ৩০দিন হেফাজতে থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ হারাবেন।
২. পদ হারানোর পর ওই ব্যক্তি জামিন পেলেও, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি আর শপথ নিতে পারবেন না।
৩. এই নিয়ম কেন্দ্র ও রাজ্য — দুই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
বর্তমানে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, ২ বছর বা তার বেশি সাজা হলে তবেই সাংসদ-বিধায়কের পদ যায়। কিন্তু গ্রেপ্তার হলেই পদ যাওয়ার বিধান নেই। নতুন বিলে সেটাই আনা হচ্ছে।
কেন্দ্রের যুক্তি:
সরকারি সূত্রের দাবি, “জনজীবনে স্বচ্ছতা আনতেই এই পদক্ষেপ। গুরুতর অভিযোগে ৩০ দিন জেলে থাকা কোনও ব্যক্তি নীতি নির্ধারণী পদে থাকতে পারেন না। এতে সুশাসন নিশ্চিত হবে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল হিসেবে এটি পেশ হতে পারে।
বিরোধীদের তোপ :
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করিয়ে রাজ্য সরকার ফেলতেই এই বিল। তৃণমূল, কংগ্রেস, ডিএমকে, আপ-সহ একাধিক দল একযোগে সরব।
তৃণমূলের এক সাংসদ বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যে ইডি-সিবিআই যায় না। কিন্তু বিরোধী রাজ্যে গেলেই মুখ্যমন্ত্রীকে জেলে পোরার চেষ্টা হয়। ৩০ দিন আটকে রেখে সরকার ফেলে দেওয়াই লক্ষ্য।” কংগ্রেসের বক্তব্য, “কোনও ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ। শুধু গ্রেপ্তার হলেই পদ যাবে, এটা সংবিধানের মূল ভাবনার পরিপন্থী।”
সংখ্যার হিসাব :
সংবিধান সংশোধনী পাশ করাতে লোকসভায় ৫৪৩-এর মধ্যে ৩৬২ এবং রাজ্যসভায় ২৪৫-এর মধ্যে ১৬৪ জন সাংসদের সমর্থন লাগবে। লোকসভায় এনডিএ-র হাতে ২৯৩ সাংসদ। রাজ্যসভায় এনডিএ ১১৫। ফলে বিল পাশ করাতে বিজেডি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস, বিআরএস-এর মতো দলের সমর্থন জরুরি।
বিজেপির পাল্টা:
বিজেপির শিবির থেকে বলা হচ্ছে, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যাঁদের আপত্তি, তাঁরাই বিলের বিরোধিতা করছেন। প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী — সবাই আইনের ঊর্ধ্বে নন। ৩০ দিন জেলে থাকলে প্রশাসন চালাবেন কীভাবে?”
২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে এই বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত পেশ হয়নি। ২০২৬-এর বাদল অধিবেশনে ফের বিল আনার তোড়জোড় শুরু হতেই জাতীয় রাজনীতি সরগরম।
বিল শেষ পর্যন্ত সংসদে পেশ হয় কি না এবং পাশ হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।