অন্নপূর্ণা যোজনা: একই পরিবারের দুই মহিলা কি আবেদনের যোগ্য? জানুন নিয়ম ও নথিপত্রের তালিকা
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করেছে। পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আদলেই আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করে নতুন রূপে আনা হয়েছে এই প্রকল্প।
ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের লক্ষাধিক মহিলার মনে প্রশ্ন—একই পরিবারের দু’জন মহিলা সদস্য কি আলাদাভাবে এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন? আবেদনের জন্য কী কী কাগজ লাগবে? কীভাবে নির্ভুলভাবে দ্রুত আবেদন জমা দেওয়া যাবে? এই সব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছে নারী ও শিশু উন্নয়ন দফতর।
এক পরিবার থেকে একাধিক আবেদন করা যাবে?
অন্নপূর্ণা যোজনার গাইডলাইন অনুযায়ী, একটি পরিবারের একাধিক মহিলা সদস্য যদি যোগ্যতার সব শর্ত পূরণ করেন, তবে তাঁদের আবেদন বাতিল করার কোনও আইনি ভিত্তি নেই। দফতরের মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, আলাদাভাবে আবেদন করা যাবে।
যোগ্যতার মূল শর্ত
১. বয়স : আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
২. একই বাড়িতে শাশুড়ি-বৌমা : যদি একই পরিবারে শাশুড়ি ও বৌমা দু’জনেই এই বয়সসীমার মধ্যে পড়েন এবং অন্যান্য শর্ত মানেন, তবে তাঁরা দু’জনেই পৃথকভাবে আবেদন করতে পারবেন।
৩. মাসিক সহায়তা : সব শর্ত পূরণ হলে একই পরিবারের একাধিক যোগ্য মহিলা মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। পরিবারপিছু কোনও নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা রাখেনি সরকার।
বিশেষ ক্ষেত্রে কী নিয়ম?
নবান্ন সূত্রে খবর, কোনও যৌথ পরিবারে দু’টি বিবাহিত দম্পতি যদি আলাদা সংসার করেন এবং তাঁদের পৃথক রেশন কার্ড ও স্বতন্ত্র আধার কার্ড থাকে, তবে প্রযুক্তিগতভাবে তাঁদের আলাদা পরিবার হিসেবে ধরা হবে। সেক্ষেত্রে দুই পরিবারের গৃহকর্ত্রীই আলাদাভাবে আবেদন জমা দিতে পারবেন।
আবেদনের জন্য জরুরি নথি ও শর্ত
১. আধার-ব্যাঙ্ক লিঙ্ক বাধ্যতামূলক : সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দিতে এবং দালাল চক্র রুখতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক ও ডিবিটি মোড চালু রাখা বাধ্যতামূলক।
২. একক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট : আবেদনকারীর নিজের নামে একক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। স্বামী বা পরিবারের কারও সঙ্গে যৌথ অ্যাকাউন্ট থাকলে আবেদন সঙ্গে সঙ্গে বাতিল হবে।
৩. ডিজিটাল যাচাই : সব আবেদনপত্র জেলা শাসকের দফতর ও স্থানীয় পঞ্চায়েত স্তরে ডিজিটালি মিলিয়ে দেখা হবে। একই আধার নম্বর দিয়ে দু’টি আলাদা এলাকা থেকে আবেদন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জালিয়াতি রুখতে কড়া বার্তা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুরু থেকেই জানিয়েছেন, ভুয়ো আবেদনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতেই এই কড়াকড়ি।
জাতিগত মানদণ্ড ও সহায়তার পরিমাণ
সরকার সাধারণ ও ওবিসি শ্রেণিভুক্ত যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তা দেবে। আবেদনকারীর বয়স ন্যূনতম ২১ ও সর্বোচ্চ ৬০ বছর হতে হবে।
সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—যোগ্যতা থাকলে একই ছাদের তলায় থাকা একাধিক মহিলাও অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন। তবে আবেদনপত্রে কোনও ভুল তথ্য বা জাল নথি দিলে আবেদন বাতিলের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।