নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগেই বড় ধাক্কা। নির্বাচন কমিশন ২৮ বছরের পুরনো জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করেছে। একই সঙ্গে ফ্রিজ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস নামও। ফলে আসন্ন দুই উপনির্বাচনে শাসক দলের দুই শিবিরই নিজেদের নাম ও চিহ্ন ব্যবহার করতে পারবে না।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন শিল্পী সোমনাথ চৌধুরী। তাঁর দাবি, ঘাসের ওপর জোড়া ফুলের যে প্রতীক, যার একটি ফুল ছোট ও একটি বড়, সেটি তাঁরই আঁকা। এতদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই প্রতীক এঁকেছেন বলে যে দাবি করে এসেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে অভিযোগ শিল্পীর।
একটি সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সোমনাথ চৌধুরী বলেন, “এই পার্টিটা তো থাকবেই না। আমাকে মিথ্যে বলেছে। আমার কাছ থেকে চুরি করেছে। চুরির জিনিস থাকে না। সত্যের জয় হবেই। ২৮ বছর বাদে হলেও হল। এই ফুলটা নিয়ে সে কোনও কাজই করতে পারল না। সিম্বল থাকবে না।”
তিনি জানান, তৃণমূল প্রতিষ্ঠার সময় অজিত পাঁজা তাঁকে ৭ দিনের মধ্যে একটি ফুল আঁকতে বলেন। তিনি বলেন, ফুলটি অনেক বড় কাজে লাগবে। ছবি চূড়ান্ত করার ৫ মিনিট পরেই তিনি টিভিতে দেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাক্ষাৎকারে বলছেন, তিনি ছোটবেলায় মামাবাড়ি যেতেন, সেখানে কাশফুল দেখতেন এবং তখন থেকেই ভেবেছিলেন জীবনে কিছু করলে এই ভাবনাকে কাজে লাগাবেন। নিজের হাতে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতীকটি এঁকেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সোমনাথবাবুর প্রশ্ন, “জন্ম হল পার্টিটার, মিথ্যেটা কেন বলল? এত বড় মিথ্যে কেন?”
তাঁর আরও অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক তাঁকে এই বিষয়টি ভুলে যেতে বলেছিলেন। তিনি বলেন, দলের উচ্চমহলের সবাই জানে প্রতীকটি তাঁর আঁকা। বর্তমান সময়ে নির্বাচন কমিশন প্রতীকটি ফ্রিজ করায় তিনি খুশি হয়েছেন বলে জানান। এজন্য কমিশনকে ধন্যবাদ ও নমস্কার জানিয়েছেন তিনি।
শিল্পী সোমনাথ চৌধুরী অবশ্য টাকা-পয়সা নয়, শুধু স্বীকৃতি চান। তাঁর বক্তব্য, “ফুলটা এখনও পর্যন্ত আমারই করা। যেহেতু ওরা স্বীকৃতি দেয়নি, তাই যে স্বীকৃতি দেবে, আমার মনে হয় ঋতব্রতদের কাছেই যাওয়া ভালো হবে। ওরা স্বীকৃতি দিক, আর লোগোটা নিক। আমার কোনও অসুবিধা নেই। আমি করেছি, এইটুকু বলুক।”
নির্বাচন কমিশন এখনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে জোড়াফুল প্রতীক কার হাতে থাকে, সেটাই এখন দেখার। তবে ভোটের লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রতীক তৈরির কৃতিত্ব নিয়েও বিতর্ক তুঙ্গে রয়েছে।