হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসে ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ন্যাপথা লাইন থেকে ছড়াল আগুন — ৩৫ জনের বেশি দগ্ধ, আশঙ্কাজনক কয়েকজন
হলদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর: মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার আগেই বিপর্যয় নেমে এল হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের কারখানা চত্বরে। ন্যাপথা সরবরাহকারী পাইপলাইনে আচমকা আগুন লেগে অন্তত ৩৫ জন শ্রমিক-কর্মী অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।
দমকল বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, রাতভর বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের পরই পাইপলাইন এলাকায় গোলযোগ শুরু হয়। ভোর ৪টা নাগাদ বিকট শব্দে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান কর্তব্যরত কর্মীরা। মুহূর্তে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা চত্বর। তবে আগুন লাগার নিশ্চিত কারণ জানতে বিশেষজ্ঞ দল তদন্ত শুরু করেছে।
খবর পেয়েই হলদিয়া দমকল কেন্দ্রের পাঁচটি ইঞ্জিন ছুটে আসে। সঙ্গে যোগ দেয় শিল্পাঞ্চলের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। পুলিশ ও মহকুমা প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে তদারকি করেন। প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন আয়ত্তে আসে।
দগ্ধ কর্মীদের সঙ্গে সঙ্গেই হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর সংকটজনক ৯ জনকে তমলুক জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের হলদিয়াতেই চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগেরই শরীরের ৩০-৪০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে।
কারখানার পাশের বাসুদেবপুর ও দুর্গাচক এলাকার বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের মতো শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। আগুনের তাপে কাছাকাছি কয়েকটি টিনের চালের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আতঙ্কে অনেকেই বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। যদিও বড়সড় বিস্ফোরণ এড়ানো গেছে বলে দাবি দমকলের।
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। আহত কর্মীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এখন প্রথম অগ্রাধিকার। প্ল্যান্টের বাকি অংশ সুরক্ষিত আছে। ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হবে।”
অগ্নিকাণ্ডের কারণ, নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করতে ফরেনসিক ও ফ্যাক্টরি পরিদর্শকদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আপাতত গোটা শিল্পাঞ্চলে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ন্যাপথা সরবরাহ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।