‘তৃণমূল শেষ, প্রতিজ্ঞা পূরণ’— এগরার শীপুরে মহাদেবের কাছে মানত রেখে গণমুণ্ডন ৫ বিজেপি কর্মীর, বাজার-মন্দির চত্বরে উৎসবের মেজাজ
অলকেশ মাইতি, এগরা, পূর্ব মেদিনীপুর: রাজ্যে পটপরিবর্তনের হাওয়া। তৃণমূল সরকারের পতনের খবর ছড়াতেই পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার শীপুরে দেখা গেল অভূতপূর্ব দৃশ্য। ‘তৃণমূল শেষ হলেই ন্যাড়া হব’— মহাদেবের কাছে করা পুরনো মানত পূরণ করতে সোমবার সকালে একযোগে মাথা মুড়িয়ে ফেললেন ৫ বিজেপি কর্মী ও স্থানীয় নেতৃত্ব।
মানতের গল্প, গণমুণ্ডনের উৎসব
স্থানীয় বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত বিধানসভা নির্বাচনের সময় শীপুর বাজারের শিবমন্দিরে পুজো দিয়ে মানত করেছিলেন এলাকার কয়েকজন কর্মী। প্রতিজ্ঞা ছিল— রাজ্যে তৃণমূলের শাসন শেষ হলেই মহাদেবের কাছে মাথার চুল উৎসর্গ করবেন।
সোমবার সকাল থেকেই শীপুর বাজার ও মন্দির চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ঢাক-ঢোল, শাঁখ ও ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনির মধ্যে খোলা আকাশের নীচে মাটিতে সার দিয়ে বসেন পাঁচজন। নাপিত ডেকে প্রকাশ্যেই চলল গণমুণ্ডন। কেউ খালি গায়ে, কেউ গামছা পরে— একে একে ন্যাড়া হলেন স্থানীয় নেতা সুদীপ দাস, কর্মী রঞ্জিত মাইতি, তপন জানা, সঞ্জয় পাত্র ও দীপক মণ্ডল।
মুণ্ডন শেষে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ছবি তোলেন তাঁরা। মুখে হাসি, চোখে জল। সুদীপ দাস বলেন, “মহাদেবের কাছে যা চেয়েছিলাম, আজ তা পূরণ হয়েছে। তৃণমূলের অপশাসন শেষ। এটা শুধু চুল কাটা নয়, অহংকার ত্যাগ।”
উৎসবের আবহ, নজর কেড়েছে বাজার
গণমুণ্ডনকে কেন্দ্র করে শীপুর বাজার কার্যত উৎসবের চেহারা নেয়। মন্দিরে বিশেষ পুজো, প্রসাদ বিতরণ, মিষ্টিমুখ— সবই চলল পাশাপাশি। সাধারণ মানুষ ভিড় করে দেখলেন এই ‘প্রতিজ্ঞা পূরণ’। অনেকেই মোবাইলে ছবি-ভিডিও তুললেন।
স্থানীয় বিজেপি মণ্ডল সভাপতি বলেন, “এটা কর্মীদের আবেগ। বছরের পর বছর ধরে শাসকের রক্তচক্ষু, মিথ্যা মামলা, সন্ত্রাস সহ্য করেছি। আজ মুক্তির আনন্দে ওরা মানত পূরণ করল। এটাই নতুন বাংলার সূচনা।”
রাজনৈতিক বার্তা
রাজনৈতিক মহলের মতে, এগরার এই গণমুণ্ডন শুধু ধর্মীয় মানত নয়, স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও। পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভা— পূর্ব মেদিনীপুর তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলেই পরিচিত। সেখানে প্রকাশ্যে পাঁচ কর্মীর মাথা মুড়িয়ে উল্লাস বুঝিয়ে দিচ্ছে, তৃণমূলের পতনের পর মাঠ পর্যায়ে মনোবল কোথায় পৌঁছেছে।
তবে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, “সরকার এখনও আছে। এসব নাটক করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। সময় এলে জবাব পাবে।”
শেষকথা
মাথার চুল গেল, কিন্তু মনের জোর বেড়ে গেল কয়েক গুণ— বলছেন ন্যাড়া হওয়া কর্মীরা। শীপুরের মাটিতে আজ শুধু ক্ষুর চলেনি, চলেছে বদলের বার্তাও। মহাদেবের থানে মানত রাখা হয়েছিল, রাজনীতির থানে তা পূরণ হল। এগরা দেখল, প্রতিজ্ঞা আর রাজনীতি মিলেমিশে কীভাবে উৎসব হয়ে যায়।