_মাত্র একটা সইয়ের জন্য ৭ বছর ধরে নবান্নের দরজায় ঘুরেছেন। অবশেষে দু’মিনিটেই সমাধান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপে স্বামীর চাকরি ফিরে পাচ্ছেন বিধাননগর কমিশনারেটের প্রয়াত পুলিশকর্মী অয়ন দাসের স্ত্রী মীনাক্ষী দাস।
_২০১৮ সালে অন-ডিউটি অবস্থায় মৃত্যু হয় বিধাননগর কমিশনারেটের কনস্টেবল অয়ন দাসের। নিয়ম অনুযায়ী কমপেনশেসন গ্রাউন্ডে চাকরি পাওয়ার কথা তাঁর স্ত্রী, স্নাতক মীনাক্ষী দাসের। ২০১৯ সালের অক্টোবরে সমস্ত কাগজপত্র জমা দেন নবান্নে। আইন অনুযায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর সই হলেই চাকরি মিলবে।
_কিন্তু এরপর শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা। মীনাক্ষীর কথায়, “সর্ষের তেলের ঘানির মতো শুধু ঘুরপাক খেয়েছি নবান্নে। জুতোর তলা ক্ষয় হয়ে গেছে ঘুরতে ঘুরতে। তবুও কাজ হয়নি।” একসময় আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন।
_বুধবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন মীনাক্ষী। সমস্যার কথা শোনামাত্রই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সই হয়ে যাবে। আপনি ৭ দিনের মধ্যে কমপেনশেসন গ্রাউন্ডে চাকরি পাবেন।”
_খুশিতে চোখে জল চলে আসে মীনাক্ষীর। তিনি বলেন, “কী বলে যে ধন্যবাদ দেব ভেবে পাচ্ছি না। মানবিকতা, মানসিকতা এবং কর্ম তৎপরতার দিক থেকে শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় অনেক এগিয়ে।”
_মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই নবান্নে তৎপরতা শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট দফতরকে দ্রুত ফাইল ক্লিয়ার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, এক সপ্তাহের মধ্যেই নিয়োগপত্র হাতে পাবেন মীনাক্ষী দাস।
_স্বরাষ্ট্র দফতর মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে। কমপেনশেসন গ্রাউন্ডে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর সই বাধ্যতামূলক। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বহু পরিবারই হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ। এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে নজির তৈরি হল বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
_মীনাক্ষী দাসের ঘটনা সামনে আসার পর নবান্নে জমে থাকা অনুরূপ ফাইলগুলিও দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।