এই মুহূর্তে এস এস কে এম হাসপাতালে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
তারাতলার নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪। রাত পর্যন্ত চলা উদ্ধারকাজে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ২২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মঙ্গলবার বেলা ১২টার কিছু পরে তারাতলার এই নির্মীয়মাণ গোডাউনটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১০টি ইঞ্জিন, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স। গ্যাস কাটার, ক্রেন ও স্নিফার ডগ ব্যবহার করে রাতভর চলে উদ্ধারকাজ।
বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর আগে রাজ্যের তিন জন মন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে তদারকি করেন।
নবান্ন থেকে সরাসরি উদ্ধারকাজে নজর রাখা হচ্ছে। খোলা হয়েছে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “ধ্বংসস্তূপ সম্পূর্ণ না সরানো পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলবে। একজনও যাতে আটকে না থাকে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
এসএসকেএম হাসপাতাল সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া ২২ জনের মধ্যে ৪ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি ১৮ জনের চিকিৎসা চলছে। ৭ জনের অবস্থা সঙ্কটজনক, তাঁদের ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। আহতদের মাথা, বুক ও শিরদাঁড়ায় গুরুতর চোট রয়েছে।
মৃতদের নাম-পরিচয় ধীরে ধীরে পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মৃত ও আহতদের বেশিরভাগই মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পরিযায়ী শ্রমিক।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসছে, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার ও একটানা বৃষ্টিতে কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি, নির্মাণে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা বিধি মানা হয়নি বলেও অভিযোগ।
মুখ্যমন্ত্রী গোটা ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পুরসভা ও পুলিশ পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। নির্মাণকারী সংস্থার মালিকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ।