ভূমিকা:—-
ভারতের স্বাধীনতা-উত্তর রাজনীতির ইতিহাসে কিছু নাম আছে যারা শুধু ক্ষমতার অলিন্দে বিচরণ করেননি, বরং জাতির ভবিষ্যতের রূপরেখা এঁকেছেন নিজের রক্ত দিয়ে। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তেমনই এক নাম—যিনি একাধারে প্রাজ্ঞ শিক্ষাবিদ, দূরদর্শী রাজনীতিক এবং আপসহীন জাতীয়তাবাদী। ১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতার ভবানীপুরে ‘বাংলার বাঘ’ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও যোগমায়া দেবীর ঘরে জন্ম নেওয়া এই মানুষটির জীবনদর্শন ছিল—“দেশ আগে, দল পরে, ব্যক্তি সবার শেষে”। ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন কাশ্মীরের বন্দিশালায় তাঁর রহস্যমৃত্যু শুধু একটি জীবনের অবসান নয়, অখণ্ড ভারতের স্বপ্নের জন্য দেওয়া চরম আত্মাহুতি।
শৈশব ও শিক্ষাজীবন: পিতার ছায়ায় গড়ে ওঠা:—
স্যার আশুতোষ ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং বঙ্গীয় শিক্ষা-সংস্কৃতির অন্যতম রূপকার। এমন পরিবেশে বড় হওয়া শ্যামাপ্রসাদ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতক, এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে এম.এ। ১৯২১ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি বিলেতে যান ব্যারিস্টারি পড়তে। লিংকন’স ইন থেকে ব্যারিস্টার হয়ে ফিরে আসেন ১৯২৪ সালে। কিন্তু পিতার অকালপ্রয়াণ তাঁকে ওকালতির বদলে শিক্ষা ও জনসেবার পথে টেনে আনে। ১৯২৬ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন—সেই শুরু।
শিক্ষাবিদ শ্যামাপ্রসাদ: বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য:—
১৯৩৪ সালে ৩৩ বছর বয়সে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন—আজও তিনিই সর্বকনিষ্ঠ। ১৯৩৪-১৯৩৮, এই চার বছরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিছক ডিগ্রি-বিতরণ কেন্দ্র থেকে প্রকৃত ‘ইউনিভার্সিটি’ করে তোলেন।
বাংলা ভাষার মর্যাদা:—
- পরীক্ষায় বাংলা: এম.এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ পরীক্ষায় বাংলা ভাষায় উত্তর লেখার অধিকার চালু করেন। এর আগে ইংরেজি বাধ্যতামূলক ছিল।
- সমাবর্তনে বিপ্লব: ১৯৩৭ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে দিয়ে সমাবর্তনে বাংলা ভাষায় ভাষণ দেওয়ান। ব্রিটিশ আমলে এ ছিল অভাবনীয় ঘটনা।
- পাঠ্যক্রমে বাংলা: বাংলা সাহিত্য, ইতিহাস ও দর্শনকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
- পরিভাষা কমিটি: বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার জন্য বাংলা পরিভাষা তৈরির কমিটি গঠন করেন, যাতে মাতৃভাষায় উচ্চশিক্ষা সম্ভব হয়।
আধুনিক বিষয়ের প্রসার:–
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: ফলিত রসায়ন, ফলিত পদার্থবিদ্যা, রেডিও-পদার্থবিদ্যা, কৃষি-বিজ্ঞান বিভাগ খোলেন। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়কে দিয়ে নতুন ল্যাবরেটরি তৈরি করান।
- সমাজবিজ্ঞান: নৃবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, সমাজতত্ত্ব, মনোবিজ্ঞান বিভাগ চালু করেন। প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশকে নিয়ে আসেন পরিসংখ্যান বিভাগে।
- প্রাচ্য ভাষা: চীনা, তিব্বতি, জার্মান, ফরাসি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করেন। চীন থেকে অধ্যাপক এনে চৈনিক ভাষা পড়ানোর ব্যবস্থা করেন।
- আইন শিক্ষা: আইন কলেজের সংস্কার করে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ চালু করেন।
নারীশিক্ষা:–
- কলেজ প্রতিষ্ঠা: আশুতোষ কলেজ ও যোগমায়া দেবী কলেজ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা নেন। তাঁর মায়ের নামে কলেজ করে নারীশিক্ষাকে পারিবারিক দায়িত্বে পরিণত করেন।
- সহশিক্ষা: বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য আলাদা কমনরুম, লাইব্রেরি সুবিধা ও বৃত্তির ব্যবস্থা করেন।
- উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ: মেয়েদের গবেষণার জন্য বিশেষ ফেলোশিপ চালু করেন। তাঁর সময়েই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম মহিলা পিএইচ.ডি ডিগ্রি পান।
ছাত্রকল্যাণ:–
- বৃত্তি ও ঋণ: দরিদ্র অথচ মেধাবী ছাত্রদের জন্য ‘পুওর স্টুডেন্টস ফান্ড’ গঠন করেন। সুদবিহীন শিক্ষা-ঋণ চালু করেন।
- আবাসন: কারমাইকেল হস্টেল, বেকার হস্টেল সংস্কার ও নতুন হস্টেল তৈরি করেন। গ্রামের ছাত্রদের শহরে থাকার সুবিধা হয়।
- স্বাস্থ্য: বিশ্ববিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করেন। বিনামূল্যে চিকিৎসা ও টিকাদানের ব্যবস্থা হয়।
- কর্মসংস্থান: ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট বোর্ড’ গঠন করে পাশ করা ছাত্রদের চাকরির ব্যবস্থা করতেন।
- গ্রন্থাগার: কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সময়সীমা বাড়ান, রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নিয়ম করেন।
রবীন্দ্রনাথ তাঁকে লিখেছিলেন, “তোমার মতো উপাচার্য পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ধন্য”।
রাজনীতিতে প্রবেশ: কংগ্রেস থেকে হিন্দু মহাসভা:—
১৯২৯ সালে কংগ্রেসের টিকিটে তিনি বাংলা আইন পরিষদের সদস্য হন। কিন্তু ১৯৩৭ সালে কৃষক প্রজা পার্টি ও মুসলিম লীগের জোট সরকারের সাম্প্রদায়িক নীতির প্রতিবাদে কংগ্রেস ত্যাগ করেন।
- আইনসভায় ভূমিকা: ১৯৩৭-১৯৪১ পর্যন্ত বিরোধী দলনেতা হিসেবে সরকারের দুর্নীতি ও পক্ষপাতের বিরুদ্ধে সরব হন।
- হিন্দু মহাসভা: ১৯৩৯ সালে যোগ দেন। ১৯৪০ সালে ফজলুল হকের প্রগ্রেসিভ কোয়ালিশন মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হন।
- দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা: ১৯৪৩-এর মন্বন্তরে ত্রাণকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ‘বেঙ্গল রিলিফ কমিটি’ গড়ে ১০ লক্ষের বেশি মানুষকে বাঁচান।
- সভাপতি: ১৯৪৩-১৯৪৬ পর্যন্ত তিনি হিন্দু মহাসভার সর্বভারতীয় সভাপতি। এই সময়ে তিনি ভারতের অখণ্ডতার পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন।
বঙ্গভঙ্গ রুখে দেওয়া: পশ্চিমবঙ্গের স্রষ্টা:–
১৯৪৬-এর ক্যাবিনেট মিশন ও মুসলিম লীগের ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ কলকাতাকে রক্তাক্ত করে। মুসলিম লীগের দাবি ছিল—গোটা বাংলা পাকিস্তানে যাবে।
- জনমত গঠন: ‘বেঙ্গল পার্টিশন লীগ’ গড়ে ১৫ লক্ষ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। হিন্দুপ্রধান জেলাগুলোতে গণভোটের দাবি তোলেন।
- কূটনৈতিক লড়াই: লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে বোঝান যে কলকাতা ছাড়া ভারত অচল। নেহরু ও প্যাটেলকে বলেন, “বাংলা গেলে আসামও যাবে”।
- আইনসভার লড়াই: ২০ জুন ১৯৪৭ বঙ্গীয় আইনসভায় বাংলা ভাগের প্রস্তাব পাস হয় ১২৬-৯০ ভোটে। শ্যামাপ্রসাদের নেতৃত্বেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতে থাকে।
- উদ্বাস্তু পুনর্বাসন: দেশভাগের পর ৪০ লক্ষ উদ্বাস্তুর জন্য তিনি কেন্দ্রের কাছে বিশেষ প্যাকেজ আদায় করেন। যাদবপুর, বিজয়গড় কলোনি গড়তে সাহায্য করেন।
সর্দার প্যাটেল পরে বলেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে ভারতে রাখার জন্য আমরা শ্যামাপ্রসাদের কাছে ঋণী”।
নেহরু মন্ত্রিসভায় ও পদত্যাগ: নীতির প্রশ্নে আপসহীন:–
স্বাধীনতার পর শ্যামাপ্রসাদকে শিল্প ও সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী করা হয়।
- শিল্পায়ন: চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস, সিন্দ্রি সার কারখানা, হিন্দুস্তান এয়ারক্রাফট, ড্যামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন—এই চারটি মেগা প্রকল্প তাঁর মস্তিষ্কপ্রসূত।
- ক্ষুদ্র শিল্প: খাদি, কুটির শিল্প, হ্যান্ডলুম বোর্ড গঠন করেন। ‘স্বদেশী’ পণ্যের বাজার তৈরি করেন।
- নেহরু-লিয়াকত চুক্তি: ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দু নির্যাতন চরমে। চুক্তিতে বলা হল দুদেশ সংখ্যালঘু রক্ষা করবে, কিন্তু পাকিস্তান মানল না। শ্যামাপ্রসাদ সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন, “এ চুক্তি মৃত্যু পরোয়ানা”।
- পদত্যাগ: ১৯৫০ সালের ৬ এপ্রিল তিনি পদত্যাগ করেন। নেহরুকে লেখেন, “বাংলার হিন্দুদের রক্তের বিনিময়ে আমি মন্ত্রিত্ব করতে পারি না”। স্বাধীন ভারতে নীতির কারণে এটাই প্রথম পদত্যাগ।
ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা: বিরোধী রাজনীতির নতুন ধারা:—
শ্যামাপ্রসাদ বুঝেছিলেন, কংগ্রেসের একাধিপত্য গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।
- আরএসএস-এর সহায়তা: গুরু গোলওয়ালকারের সঙ্গে আলোচনা করে দীনদয়াল উপাধ্যায়, অটলবিহারী বাজপেয়ী, বলরাজ মাধোকদের নিয়ে দল গড়েন।
- ২১ অক্টোবর ১৯৫১: দিল্লির রাঘোমল আর্য কন্যা স্কুলে ‘ভারতীয় জনসংঘ’ প্রতিষ্ঠা।
- মূল নীতি: ১. অখণ্ড ভারত, ২. এক দেশ এক বিধান, ৩. সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ, ৪. অর্থনীতিতে বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বদেশী, ৫. বিদেশ নীতিতে জোট-নিরপেক্ষতা কিন্তু পাকিস্তানের প্রতি কঠোরতা।
- নির্বাচন: ১৯৫২ সালের প্রথম লোকসভায় জনসংঘ ৩টি আসন পায়। শ্যামাপ্রসাদ দক্ষিণ কলকাতা থেকে ১৬ হাজার ভোটে জিতে বিরোধী দলনেতা হন। সংসদে তাঁর বক্তৃতা শুনতে নেহরুও কলম থামিয়ে দিতেন।
কাশ্মীর সত্যাগ্রহ ও আত্মবলিদান:–
সংবিধানের ৩৭০ ধারা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল—আলাদা সংবিধান, আলাদা পতাকা, আলাদা প্রধানমন্ত্রী।
- স্লোগান: “এক দেশে দুই প্রধান, দুই বিধান, দুই নিশানা চলবে না”।
- পারমিট প্রথা: ভারতীয়দের কাশ্মীরে ঢুকতে পারমিট লাগত। শ্যামাপ্রসাদ বললেন, “ভারতের মাটিতে ভারতীয়কেই পারমিট!”
- যাত্রা: ১৯৫৩ সালের ৮ মে দিল্লি থেকে যাত্রা শুরু। পাঞ্জাবে হাজার হাজার মানুষ যোগ দেয়। ১১ মে জম্মুর মাধোপুর সেতুতে পারমিট ছাড়া ঢুকতেই গ্রেফতার।
- বন্দিদশা: শ্রীনগরের নিশাতবাগে একটি জরাজীর্ণ কটেজে রাখা হয়। তাঁর ডায়াবেটিস ছিল, পেনিসিলিনে অ্যালার্জি ছিল। তবু জোর করে পেনিসিলিন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
- মৃত্যু: ২৩ জুন ভোর ৩:৪০-এ মৃত্যু ঘোষণা। পরিবারকে জানানো হয় বিকেলে। পোস্টমর্টেম হয়নি। ড. বি.সি. রায়কে প্লেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
- প্রতিক্রিয়া: গোটা দেশে হরতাল। সংসদে নেহরুকে ঘেরাও। মা যোগমায়া দেবী বলেছিলেন, “আমার খোকা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে, আমি গর্বিত”। এই বলিদানই ২০১৯ সালে ৩৭০ বিলোপের নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে।
চিন্তা ও দর্শন:—
সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ:–
শ্যামাপ্রসাদ ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদ’ বলতে বোঝাতেন ভারতের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ—যা সকল ধর্ম-বর্ণকে ধারণ করে। তিনি বলতেন, “ভারত একটি ভূখণ্ড নয়, একটি জীবন্ত সত্তা—ভারতমাতা”। অর্থনীতিতে তিনি স্বদেশী ও বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে ছিলেন। শিক্ষায় মাতৃভাষা, চরিত্রগঠন ও বিজ্ঞানমনস্কতার সমন্বয় চাইতেন।
- ধর্মনিরপেক্ষতা: তাঁর মতে, “সেকুলারিজম মানে ধর্মহীনতা নয়, সর্বধর্ম সমভাব”।
- ভাষা নীতি: হিন্দিকে যোগাযোগের ভাষা, কিন্তু মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা—এই ত্রিভাষা সূত্রের প্রবক্তা তিনি।
- বিদেশনীতি: পঞ্চশীল নয়, শক্তিশালী ভারতের পক্ষে ছিলেন। তিব্বত নিয়ে নেহরুর নীতির সমালোচনা করেন ১৯৫০ সালেই।
উত্তরাধিকার: কেন তিনি ‘ভারত কেশরী’?
১. পশ্চিমবঙ্গের রক্ষাকর্তা:– তাঁর জন্য আজ কলকাতা, দার্জিলিং, সুন্দরবন ভারতে।
২. বিরোধী রাজনীতির জনক:– জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করে একদলীয়তন্ত্র রুখে দেন।
৩. কাশ্মীর নীতির পথিকৃৎ::– “এক বিধান” তত্ত্ব আজ রাষ্ট্রীয় নীতি।
৪. শিক্ষা-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক:– বাংলা ভাষা ও আধুনিক শিক্ষার মেলবন্ধন ঘটান।
উপসংহার:—
মাত্র ৫২ বছরের জীবনে শ্যামাপ্রসাদ যা করেছেন, তা অনেকের কয়েক জন্মেও সম্ভব নয়। তিনি ক্ষমতা চাননি, চেয়েছিলেন অখণ্ড, শক্তিশালী, স্বাভিমানী ভারত। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—“নেশন ফার্স্ট”। ২০১৫ সালে কলকাতা বন্দরের নাম ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর’ রাখা হয়। কিন্তু তাঁর আসল স্মৃতিসৌধ গড়ে উঠবে তখনই, যখন প্রতিটি ভারতবাসী তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য কাজ করবে। তাই তিনি শুধু বাংলার নয়, গোটা ভারতের ‘কেশরী’—সিংহপুরুষ। তাঁর আত্মত্যাগের দীপ্তি ভারতের আকাশে ধ্রুবতারার মতো জ্বলবে চিরকাল।