তারাতলায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বেলা ১২টার কিছু পরে একটি নির্মীয়মাণ গোডাউন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল। ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে এখনও পর্যন্ত ১৮ জন আহত শ্রমিককে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বিকেল ৪টা ৪০ মিনিট নাগাদ তারাতলার দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর আগেই উদ্ধারকাজ তদারকি করতে রাজ্যের তিন জন মন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন।
এই দুর্ঘটনার পর নবান্ন থেকে সরাসরি উদ্ধারকাজে তদারকি করা হচ্ছে। নবান্নে একটি কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্ধারকারী দল, দমকল ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন। অন্তত ১৮ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও ২৫ থেকে ৩০ জন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকতে পারেন বলে খবর।
দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও পুলিশ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। গ্যাস কাটার, ক্রেন ও স্নিফার ডগ ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। সময় যত গড়াচ্ছে, আটকে পড়া শ্রমিকদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
*হাসপাতালে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি*
এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি আহতদের চিকিৎসায় বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আহতদের অনেকের মাথা, বুক ও পায়ে গুরুতর চোট রয়েছে। কয়েকজনকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও বৃষ্টির কারণে কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তবে গোটা ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনাস্থল থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আহতদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে। মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানেই আছি।”
রাত পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। গোটা এলাকা পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে পুরসভা ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে টোল ফ্রি নম্বর। যে কেউ টোল ফ্রি নম্বর 1070 ছাড়াও 8697981070, 033-22143526 এবং 033-22535185 নম্বরগুলিতে ফোন করে সরাসরি তথ্য ও সাহায্য পেতে পারেন।