_ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ফ্রান্সে। গরম থেকে বাঁচতে নজরদারিহীন জলাশয়, পুল বা খালে স্নান করতে নেমে মাত্র পাঁচ দিনে অন্তত ৪০ জনের ডুবে মৃত্যু হয়েছে। ফরাসি সরকার মঙ্গলবার জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে এই তথ্য জানিয়েছে। মৃতদের বড় অংশই কিশোর ও তরুণ।
_ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসহনীয় গরম পড়েছে। সাময়িক স্বস্তি পেতে বহু মানুষ নদী, হ্রদ, ছোট জলাশয় ও খালে নামছে। কিন্তু সেখানে লাইফগার্ড বা নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। ফলেই ঘটছে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তিনি এই ঘটনাকে “একটি মর্মান্তিক সামাজিক অভিশাপ” বলে উল্লেখ করেছেন।
_যুবকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী মারিনা ফেরারি এক রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, “অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটেছে হ্রদ, খাল এবং অন্যান্য নজরদারিবিহীন জলাশয়ে। এমন তীব্র তাপপ্রবাহের সময় অসুরক্ষিত এলাকায় সাঁতার কাটতে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।”
_গত সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহে ইউরোপের একাধিক দেশ বিপর্যস্ত। আবহবিদদের পূর্বাভাস, প্যারিসে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁতে পারে, যা শহরের সর্বকালের রেকর্ডের কাছাকাছি। মধ্য ফ্রান্সের কিছু এলাকায় পারদ ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা।
_ফ্রান্সের আবহাওয়া দফতর মেতেও-ফ্রঁস জানিয়েছে, দেশের অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চল বর্তমানে ‘রেড অ্যালার্ট’-এর আওতায় রয়েছে। এটি সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তর। সংস্থার মতে, দিন ও রাত—দু’সময়েই অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা বজায় থাকবে, যা বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
_প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু জানান, “প্রতিদিন এবং প্রতি রাতেই স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে।” মেতেও-ফ্রঁসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ফ্রান্সে ১৯৪৭ সালের পর সবচেয়ে উষ্ণ রাত রেকর্ড করা হয়েছে।
_বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং আরও তীব্র হয়ে উঠছে। ফ্রান্সের বর্তমান তাপপ্রবাহ সেই উদ্বেগকেই আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ২০০৩ সালের তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এবার সরকার আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।
১. দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদে না বেরোনো।
২. প্রচুর জল ও তরল খাবার খাওয়া।
৩. নজরদারি নেই এমন জলাশয়ে স্নান না করা। শুধুমাত্র লাইফগার্ড আছে এমন পুল বা সৈকত ব্যবহার করা।
৪. বৃদ্ধ ও শিশুদের বিশেষ যত্ন নেওয়া। প্রতিবেশীদের খোঁজখবর রাখা।
_প্রশাসন জানিয়েছে, স্কুলের সময় পরিবর্তন, শ্রমিকদের কাজের সময় কমানো এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ‘কুলিং সেন্টার’ খোলা হয়েছে। তবুও গরম থেকে বাঁচতে মরিয়া হয়ে জলে ঝাঁপ দেওয়ার প্রবণতা থামানো যাচ্ছে না। মাত্র ৫ দিনে ৪০টি প্রাণহানি ফ্রান্সের জন্য বড় ধাক্কা।