তৃণমূল ছাড়লেন প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া: এবার কী তবে রাজনীতি ছাড়বেন!?
Muthokotha.in , অলকেশ মাইতি: — দলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্বের পর অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক মানস রঞ্জন ভুঁইয়া। শনিবার সন্ধ্যায় নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা তিনি ঘোষণা করেন । তৃণমূলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদত্যাগপত্রও পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে মানস ভুঁইয়া বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলে থেকে আর কাজ করার সুযোগ নেই। তাই আমি তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে রাজনীতি ও সমাজসেবা আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাই, আমি রাজনীতি থেকে দূরে যাব না। তবে কী সিদ্ধান্ত নেব, তা আগামী দিনে আমি সবাইকে জানিয়ে দেব”।
বিধানসভা ভোটে নিজের খাসতালুক সবংয়ে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল মানসের। হারের পর তিনি নিজেকেই দায়ী করে বলেছিলেন, “আমি ক্যাপ্টেন। আমি দায়ী। আমি এই হার, জনগণের রায় মাথা পেতে নিলাম”।
একই সঙ্গে তখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর মুখে। মানস বলেছিলেন, “উনিও মেদিনীপুরের ছেলে, আমিও মেদিনীপুরের ছেলে। আমি গর্ববোধ করি, একজন মেদিনীপুরের ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন”। সবং জুড়ে সন্ত্রাস চলছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণও করেছিলেন তিনি।
১৯৭০ সালে কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন মানস ভুঁইয়া। ২০১১ সালে সবং থেকে কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় সেচ ও জলপথ এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দপ্তরের মন্ত্রীও ছিলেন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় পর্যন্ত তিনি রাজ্যের জলসম্পদ তদন্ত ও উন্নয়ন মন্ত্রী পদে ছিলেন।
এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের তরফে মানস ভুঁইয়ার পদত্যাগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে এই ঘটনাকে দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
দল ছাড়লেও রাজনীতি ছাড়ছেন না মানস। তাহলে কি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা আছে নাকি জাতীয় কংগ্রেসে আবার ফিরে যেতে চান মানস! আগামী দিনে তিনি কোন পথে হাঁটেন, এখন সেদিকেই নজর সবার।