দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরও শক্তিশালী হতে চলেছে বাংলায়। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, জুনের শেষের দিকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর একটি উপরের স্তরের ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। এর জেরে জুলাইয়ের প্রথম দিকেই উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ এলাকা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
কী বলছে আইএমডি?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, ওই নিম্নচাপটি ক্রমশ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গিয়ে আরও শক্তি বাড়াতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায়।
আজ ও কালকের আবহাওয়া
রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। উত্তরবঙ্গে ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি হয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আজও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি চলবে, তারপর বৃষ্টির দাপট বাড়বে। উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে।
২৬ জুন থেকে ২ জুলাই: জেলায় জেলায় কেমন বৃষ্টি?
১. উত্তরবঙ্গ: বিক্ষিপ্ত থেকে বিস্তীর্ণ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা।
২. দক্ষিণবঙ্গ: হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।
৩. ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ৭ সেমি থেকে ২০ সেমি পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কোনও কোনও জায়গায় ২০ সেমির বেশিও বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না আইএমডি।
৪. ঝোড়ো হাওয়া: ঘণ্টায় ৩০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।
৩ জুলাই থেকে ৯ জুলাই: দক্ষিণে বাড়বে বৃষ্টির দাপট
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহের শেষ ও দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে বলে জানিয়েছে আইএমডি।
১. দক্ষিণবঙ্গ: একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি বৃষ্টি হতে পারে।
২. উত্তরবঙ্গ: কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টি চলবে।
৩. বজ্রঝড়: গোটা রাজ্যেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।
কোন জেলাগুলি বেশি ঝুঁকিতে?
আবহবিদদের মতে, উপকূলীয় জেলা, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে বৃষ্টির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে। টানা ভারী বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় জল জমা, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নদীগুলির জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। নদী তীরবর্তী ও ধসপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদেরও সাবধান থাকতে বলা হয়েছে।