গৃহবধূদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়: ৩০০০০ টাকা মাসিক বেতন

গৃহবধূদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী রায়
মুঠোকথা.in , অলকেশ মাইতি: গৃহবধূদের শ্রম দীর্ঘদিন ধরে ‘অদৃশ্য’ ও ‘অর্থনৈতিক মূল্যহীন’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এক যুগান্তকারী রায়ে গৃহবধূদের কাজকে জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে নতুন মানদণ্ড বেঁধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই মানদণ্ডের নিরিখে সামাজিক মূল্যবোধের জায়গায় গৃহবধূরদের প্রতি সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন নিশ্চয়ই সমাজে গৃহবধূদের সামাজিক স্বীকৃতিতে একটি বিরাট স্বস্তির ফলক পড়লো মনে করছে বিভিন্ন মহল।
১.’জাতির রূপকার’ হিসেবে স্বীকৃতি: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে বলেছে, গৃহবধূরা নিছক নির্ভরশীল নন। বিচারপতি করোলের ভাষায়, “হোমমেকাররা দেশ গঠন করেন। তাঁদের কাজের মূল্য অস্বীকার করা যায় না।”
২.ন্যূনতম মাসিক মূল্য নির্ধারণ: মোটর দুর্ঘটনায় নিহত গৃহবধূদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালত নির্দেশ দিয়েছে— পরিবারের জন্য একজন গৃহবধূ যে সেবা ও শ্রম দেন, তার ন্যূনতম মাসিক অর্থনৈতিক মূল্য ৩০,০০০ টাকা হিসেবে গণ্য করতে হবে।
৩.হাইকোর্টের প্রতি নির্দেশ: দেশের সমস্ত হাইকোর্টকে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের আর্থিক সহায়তার মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মোটর দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের মামলায় এতদিন গৃহবধূদের আয় শূন্য ধরা হতো বা খুবই কম মূল্যায়ন করা হতো। কারণ তাদের কোনো ‘বেতনভুক্ত’ চাকরি নেই। ফলে পরিবার ন্যায্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হতো। এই রায় সেই বৈষম্য দূর করার পদক্ষেপ।
অর্থনৈতিক স্বীকৃতি: রান্না, সন্তান পালন, বয়স্কদের সেবা, গৃহ ব্যবস্থাপনা— এই সমস্ত ‘অবৈতনিক’ কাজের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করে আদালত গৃহশ্রমকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির অংশ করল।
সামাজিক মর্যাদা : ‘জাতির রূপকার’ আখ্যা দিয়ে আদালত কোটি কোটি গৃহবধূর অবদানকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিল।
লিঙ্গসমতার পথে পদক্ষেপ: রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণই হওয়া উচিত আদর্শ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় শুধু ক্ষতিপূরণের অঙ্ক বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের কোটি কোটি গৃহবধূর অবদানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় গৃহশ্রমের প্রচলিত ধারণা বদলে দিল। গৃহবধূদের শ্রমকে ‘ভালবাসার কাজ’ বলে অবমূল্যায়ন করার দিন শেষ। আদালতের ভাষায়, তারা ‘নেশন বিল্ডার’— জাতির ভিত গড়ার কারিগর। এই রায় ভবিষ্যতে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।