ক্লাস ফাঁকি দিয়ে হস্টেলে ফিরে গলায় ফাঁস, তমলুকের স্কুলে দশম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু —
স্কুল চলাকালীন হস্টেলের ঘর থেকে উদ্ধার হল দশম শ্রেণির ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ। মঙ্গলবার, ৩০ জুন সকালে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে তমলুক থানার অন্তর্গত একটি আবাসিক স্কুলে। মৃত ছাত্রের নাম সুখেন দাস। দীর্ঘদিন ধরেই সে ওই স্কুলের হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছিল। ঘটনায় শোকের ছায়া স্কুল ও এলাকায়।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মর্নিং সেশনে যথারীতি ক্লাস শুরু হয়। সকালে হস্টেল থেকে ক্লাসে আসে সুখেন। দুটি পিরিয়ড করার পর সে আচমকাই ক্লাস থেকে বেরিয়ে হস্টেলে ফিরে যায়। স্কুল ছুটির পর অন্য আবাসিক ছাত্ররা ঘরে ফিরে দেখে, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছে সুখেন।
আতঙ্কিত ছাত্ররা সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকদের খবর দেয়। খবর যায় প্রধান শিক্ষকের কাছে। তিনি তমলুক থানায় ফোন করেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেহ উদ্ধার করে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তমলুক থানার এক আধিকারিক জানান, “ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে এবং মোবাইল খতিয়ে দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে প্রেমঘটিত কোনও কারণে মানসিক অবসাদ থেকে ছাত্রটি চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে।”
মৃত ছাত্রের বাবা দেবাংশু দাস কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ছেলের সঙ্গে আমার বন্ধুর মতো সম্পর্ক। সব কথা শেয়ার করত। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ হস্টেল সুপার ফোন করে ডাকলেন। এসে শুনি আমার ছেলে আর নেই! ও এমন কাজ করতে পারে, ভাবতেই পারছি না। কী হল, কেন হল, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
তিনি পুরো ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, “আমার ছেলেকে কেউ প্ররোচনা দিল কি না, চাপে ফেলল কি না, পুলিশ খুঁজে বের করুক।”
স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, “সুখেন খুব শান্ত ছেলে ছিল। পড়াশোনাতেও ভালো। হস্টেলে কোনও ঝামেলার খবর আমাদের কাছে ছিল না। এমন ঘটনা ঘটবে কল্পনাও করিনি। আমরা পুলিশকে সবরকম সহযোগিতা করছি। ছাত্রদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
ঘটনার পর থেকেই স্কুলে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আবাসিক ছাত্রদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ হস্টেলের অন্য ছাত্র ও শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। সুখেনের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হচ্ছে।
একটি তরতাজা প্রাণের এভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না কেউ। ময়নাতদন্ত ও পুলিশি তদন্তেই উঠে আসবে আসল কারণ।