_উত্তরাখণ্ড, গুজরাত ও অসমের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের পালা। চলতি বিধানসভা সেশনেই পেশ করা হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল। সূত্র জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিধানসভার বিএ কমিটির বৈঠকে আগামী সোমবার বিলটি উত্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
_সঙ্কল্পপত্র থেকে বিধানসভা পর্যন্ত : ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যে রাজ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালুর প্রতিশ্রুতি ছিল বিজেপির সঙ্কল্পপত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। সঙ্কল্পপত্র প্রকাশের মঞ্চে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও ইউসিসি বাস্তবায়নের বিষয়ে জোর দিয়েছিলেন। বিজেপির বক্তব্য, সরকারের প্রাথমিক আইন প্রণয়ন কর্মসূচির মধ্যেই রয়েছে ইউসিসি বিল।
_দেশে প্রথম ইউসিসি কার্যকর করে উত্তরাখণ্ড। তারপর অসম, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাতের মতো রাজ্যগুলিও এই বিধি চালুর প্রক্রিয়ায় এগিয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ।
_ইউনিফর্ম সিভিল কোড বলতে কী বোঝায়? : ইউসিসি-র মূল উদ্দেশ্য হল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, সম্পত্তি ভাগ ও দত্তক নেওয়ার মতো দেওয়ানি বিষয়ে একটিই অভিন্ন আইন প্রণয়ন। সমর্থকরা মনে করেন, এর মাধ্যমে আইনের সামনে সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে এবং ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনের ফলে তৈরি হওয়া বৈষম্য দূর হবে।
_বিলের সম্ভাব্য কাঠামো কেমন হতে পারে? : বিজেপি নেতাদের দাবি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিলে যেসব বিষয় থাকতে পারে:
১. বিবাহ সংক্রান্ত নিয়ম :
_সব সম্প্রদায়ের জন্য বিবাহের ন্যূনতম বয়স একই রাখা সব বিয়ের আইনি বৈধতার জন্য নথিভুক্তকরণ বাধ্যতামূলক করা
২. লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ :
_বহুবিবাহ প্রথা বন্ধ করা সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারে নারীদের সমান অধিকার দেওয়া*
_ধর্মের ভিত্তিতে ভেদাভেদ না করে সকলকে সমান আইনি সুরক্ষা দেওয়া
৩. লিভ-ইন সম্পর্ক নিয়ে অবস্থান :
_লিভ-ইন সম্পর্ক শুরু ও শেষ হওয়ার তথ্য নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক এই সম্পর্কগুলির ক্ষেত্রে আইনি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা
৪. একই নিয়মে বিবাহবিচ্ছেদ :
_বিবাহবিচ্ছেদের জন্য একটিই আইনি ভিত্তি ও পদ্ধতি চালু করা ধর্মীয় বা প্রথাগত বিচ্ছেদের বদলে অভিন্ন আইন কার্যকর করা
_উভয় পক্ষের জন্য সমান আইনি সুরক্ষা ও প্রতিকারের ব্যবস্থা রাখা
_সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় গুরুত্ব : রাজনৈতিক মহলের মতে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরের মতো সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলিতে এই বিলের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
_দলীয় সূত্রের দাবি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি অংশের মহিলারা ইউসিসি-কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে এটি মহিলাদের আইনি অধিকারকে আরও শক্তিশালী করবে। যদিও এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
_রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট : বিজেপির কাছে ইউনিফর্ম সিভিল কোড দীর্ঘদিনের আদর্শগত অবস্থান। রাজ্যে এই আইন পাশ হলে তা পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের অন্যতম বড় আইনি সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত হবে।
_এই বিলকে ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সমর্থকদের যুক্তি, এটি আইনের সমতা ও লিঙ্গন্যায় প্রতিষ্ঠার বড় পদক্ষেপ। অন্যদিকে সমালোচকরা ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইন ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।