ধান বাদামের পাশাপাশি ঢেঁড়স চাষ! দু’হাত ভরে কামাচ্ছেন ‘এই’ এলাকার কৃষকরা
ধান বাদামের পাশাপাশি ঢেঁড়স চাষ করে মোটা টাকা ইনকাম করছেন কৃষকরা। একদিকে বোরো ধান অন্যদিকে চিনাবাদাম, তার পাশেই ঢেঁড়স চাষ করছেন। তুলনামূলক কম খরচে ভালই লাভ পাচ্ছেন এই ঢেঁড়স চাষিরা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরার মহাবিশ্রা এলাকা। এই এলাকার কৃষক শচীন্দ্র মাইতি। গত পাঁচ বছর ধরে বোরো ধান আর চিনাবাদাম চাষের পাশাপাশি ঢেঁড়স চাষ করছেন তিনি। অল্প জমিতেও এই চাষ করা যায়। শ্রমও খুব বেশি লাগে না। ফলে অন্য ফসলের পাশাপাশি ঢেঁড়স চাষ তাঁর আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠেছে।শচীন্দ্র মাইতির কথায়, এক বিঘা জমিতে ঢেঁড়স চাষ করতে মোটামুটি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে বীজ, সার, ওষুধ এবং সেচের খরচ ধরা হয়েছে। ভাল মানের বীজ ব্যবহার করলে ফলনও ভাল হয়। তিনি সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে বীজ বপন করেন। কিছু ক্ষেত্রে জুন-জুলাই মাসেও চাষ করা যায়। বীজ বপনের ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই গাছ থেকে ঢেঁড়স তোলা শুরু হয়। নিয়মিত যত্ন নিলে গাছ দীর্ঘদিন ফল দেয়।ফসল তোলার সময়ই আসল লাভের শুরু। এক বিঘা জমি থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কুইন্টাল ঢেঁড়স উৎপাদন হয়। বাজারে চাহিদা থাকলে প্রতি কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকা দামে বিক্রি হয়। সেই হিসেবে মোট বিক্রি দাঁড়ায় প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। সব খরচ বাদ দিলে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে। নিয়মিত দু থেকে তিন দিন অন্তর ঢেঁড়স তুলতে হয়। এতে গাছ নতুন করে ফল দেয় আর উৎপাদনও বাড়ে।তার পাশাপাশি গ্রামের অনেক কৃষক এখন এই চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এই চাষে কম খরচে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। পাশাপাশি বাজারে চাহিদাও ভালই। ধান ও বাদামের পাশাপাশি ঢেঁড়স চাষ করলে ঝুঁকি কমে। এক ফসল খারাপ হলেও অন্য ফসল থেকে আয় হয়। ফলে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা নেই। শচীন্দ্র মাইতির সাফল্য দেখে এখন মহাবিশ্রা এলাকার বহু কৃষক ঢেঁড়স চাষ শুরু করেছেন। এই ঢেঁড়স চাষ হয়ে উঠেছে এখন তাদের কাছে সোনার ফসল।