কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রক্তাক্ত হল বেঙ্গালুরু। এবার প্রেমের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যানের ‘শাস্তি’ দিতে বান্ধবীকে ডিনারে ডেকে গলা কেটে খুনের অভিযোগ উঠল প্রেমিকের বিরুদ্ধে। রবিবার রাত সাড়ে ৯টায় শহরের ব্যস্ত এলাকাতেই ঘটল এই নৃশংস ঘটনা। অভিযুক্ত রাজীবকে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, নিহত তরুণীর নাম অঞ্জলি, বয়স ২৩। অভিযুক্ত যুবক রাজীব। দুজনেরই বাড়ি বেঙ্গালুরুতে। একই বেসরকারি সংস্থায় কাজ করার সুবাদে পরিচয়, তারপর গত তিন-চার বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক।
কিন্তু সম্পর্কে ছায়া ফেলে রাজীবের পারিবারিক ও সামাজিক পটভূমি। অঞ্জলির পরিবার প্রথম থেকেই এই সম্পর্কে আপত্তি জানায়। রাজীব একাধিকবার অঞ্জলি ও তাঁর পরিবারকে বিয়ের জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিবারের চাপে সম্প্রতি অঞ্জলি রাজীবকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন, যোগাযোগ প্রায় বন্ধ করে দেন।
তদন্তে জানা গেছে , সম্পর্ক জোড়া লাগাতে রবিবার সন্ধ্যায় রাজীব অঞ্জলিকে ‘শেষবার ডিনারে’ যাওয়ার অনুরোধ করে। বিশ্বাস করে দেখা করতে রাজি হন অঞ্জলি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান ও পুলিশের দাবি, রেস্তোরাঁয় বসে রাজীব ফের বিয়ের প্রসঙ্গ তোলে। অঞ্জলি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পরিবারের অমতে তিনি এগোতে পারবেন না। শুরু হয় তীব্র বচসা। রাগে-অপমানে অঞ্জলি টেবিল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই রাজীব তাঁর পিছু নেয়।
অভিযোগ, আগে থেকেই পকেটে লুকিয়ে রাখা ধারালো ছুরি বের করে অঞ্জলির গলায় এলোপাতাড়ি কোপ মারে রাজীব। রক্তে ভেসে যায় ফুটপাথ। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে রক্তাক্ত অঞ্জলিকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর।
খবর পেয়ে বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। পালানোর আগেই হাতেনাতে ধরা পড়ে অভিযুক্ত রাজীব। তার কাছ থেকে রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক জেরায় রাজীব খুনের কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।
অঞ্জলির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য এম এস রামাইয়া হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মেয়ের নিথর দেহ দেখে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন মা। বাবার অভিযোগ, “রাজীব আমার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ দিচ্ছিল। আমরা থানায় জানাব ভেবেছিলাম, তার আগেই…”।
ডিসিপি (ক্রাইম) জানিয়েছেন, “এটি পরিকল্পিত খুন কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ছুরি সঙ্গে আনা, ডিনারে ডাকা—সবটাই পূর্বপরিকল্পিত মনে হচ্ছে। অভিযুক্তের মোবাইল, কল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের মামলা রুজু হয়েছে।”
কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের পর ফের এই ঘটনা বেঙ্গালুরুর আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। সম্পর্কের টানাপোড়েনে ‘না’ শুনতে না পারার পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তারই সাক্ষী থাকল শহর। সমাজকর্মীদের দাবি, কর্মক্ষেত্রে সম্পর্ক ও প্রত্যাখ্যান নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই এখন জরুরি।
একটা ডিনারের নিমন্ত্রণ শেষ হল মর্গের ঠান্ডা টেবিলে। বিয়েতে ‘না’ বলার অপরাধে প্রাণ দিতে হল ২৩ বছরের অঞ্জলিকে। রেস্তোরাঁর বিল মেটানো হল রক্ত দিয়ে।