বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়, দলত্যাগ আর বিদ্রোহী শিবিরের চাপে ছন্নছাড়া তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের ভিত মজবুত করতে ‘আমরা বেইমান নই’ স্লোগান সামনে এনে রাজ্যজুড়ে নতুন কর্মসূচি শুরু করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট-তৃণমূল’।
কী এই কর্মসূচি?
বৃহস্পতিবার ২৫ জুন সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের উদ্যোগে রামমোহন হলে ‘আমরা বেইমান নই’ শীর্ষক বিশেষ কর্মিসভা হয়। এই সভা থেকেই ফোনে কর্মীদের বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার কড়া বার্তা
দলত্যাগী সাংসদ-বিধায়কদের ‘বেইমান, বিশ্বাসঘাতক’ বলে তোপ দাগেন মমতা। তিনি বলেন, “দল হচ্ছে মা। মা যখন অসুস্থ, তখন ওরা ছুরি মারছেন। কর্মীদের রক্তের বিনিময়েই কেউ কাউন্সিলর, এমএলএ, এমপি হয়েছেন। কিন্তু আজ টাকার লোভ আর সম্পত্তি বাঁচাতে বিজেপির সঙ্গে আপস করছেন”। কর্মীদের একজোট হওয়ার ডাক দিয়ে মমতা জানান, “সবাই একত্র থাকুন, জোটবদ্ধ হন। আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াব”।
২১ জুলাইকেই টার্গেট
মমতা ঘোষণা করেন, “দলকে শক্তিশালী করার সূত্রপাত হবে আগামী একুশে জুলাই। ওই দিন ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করব। ৫ জন লোক হলেও ধর্মতলায় যাব”। পুলিশের অনুমতি মিলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কেন এই স্লোগান?
রাজনৈতিক মহলের মতে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী শিবির গড়ে ওঠায় এবং একাধিক নেতা-বিধায়ক বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করায় দলে ভাঙন স্পষ্ট। গত কয়েক বছরে অন্য দল থেকে নেতা ভাঙিয়ে আনার কৌশল এবার তৃণমূলের দিকেই ফিরেছে। তাই পুরোনো, বিশ্বস্ত কর্মীদের সম্মান দিয়ে সংগঠন ধরে রাখাই এখন লক্ষ্য। কুণাল ঘোষ বলেন, “যারা এতদিন ধরে দলের কাজ করেছেন, অথচ সেভাবে মর্যাদা পাননি, এবারের একুশের সমাবেশ তাঁদের জন্যই”।
বিতর্কও পিছু ছাড়ছে না
কর্মসূচির পরই ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন পুর প্রতিনিধি বিশ্বরূপ দে দলত্যাগের ঘোষণা করেন। এ নিয়ে কংগ্রেস কটাক্ষ করে বলেছে, “যারা আজ ‘আমরা বেইমান নই’ বলছেন, অতীতে তাঁরাই কংগ্রেস ভেঙে শক্তি বাড়িয়েছিলেন”।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
ক্ষমতা হারানোর পর এবারই প্রথম ২১ জুলাই। সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ, বিদ্রোহী শিবিরের চাপ আর কর্মীস্তরে মমতা-আবেগ কতটা আছে—তার বড় পরীক্ষা হতে চলেছে ধর্মতলার মঞ্চ। অন্য দল থেকে নেতা আনার বদলে নিজেদের ঘর গোছানোই এখন ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর প্রধান চ্যালেঞ্জ।
আগামী দিনে
মমতা দলত্যাগীদের উদ্দেশে বলেন, “যাঁদের শুভবুদ্ধি আছে তাঁরা ফিরে আসুন। মনে রাখবেন যাঁরা গিয়েছেন তাঁরা না ঘরকা-না ঘাটকা”। ‘আমরা বেইমান নই’ স্লোগান ভাঙন রুখতে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।