_বৃহস্পতিবার বিধানসভায় তারাতলা বিপর্যয় থেকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি—একাধিক ইস্যুতে মুখ খুললেন আদি তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। আগামী সোমবার রাজ্য বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। কালীঘাট তৃণমূলের পর এবার প্রতিক্রিয়া দিলেন কুণালও।
তারাতলা নিয়ে কুণালের বক্তব্য:
_তারাতলা কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে কুণাল ঘোষ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতিকে আমরা সমর্থন করছি। কিন্তু বিগ ফিশ বেঁচে গেলে চলবে না। ফিরহাদ হাকিমের সই যদি অন্যায় হয়, তবে অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত। আর সই অপরাধ না হলে বিধানসভায় সেটা দেখানো ঠিক হয়নি।”
ইউসিসি নিয়ে অবস্থান:
_অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল প্রসঙ্গে কুণাল জানান, “ইউসিসি নিয়ে আমাদের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করা আছে। বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিলের খসড়া বা শব্দচয়ন এখনও সামনে আসেনি। সেটা দেখা দরকার।”
_তিনি আরও বলেন, “বাকি দু’টি বিষয় অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিচারের আগেই কাউকে অপরাধী বানানো সংবিধানবিরোধী। এসপির অনুমানের রিপোর্টের ভিত্তিতে সোজা জেলে পাঠানো হবে। আইনজীবীও দেওয়া যাবে না। আটকের মেয়াদও অনেক বেশি হতে পারে। রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করলে এটা প্রয়োগ করা হতে পারে। এটা কালা কানুন। এর বিরোধিতা হবে।”
২১ জুলাই নিয়ে কী পরিকল্পনা?:
_সামনেই ২১ জুলাই। গত ১৫ বছর ধরে এই দিনটি উৎসবের মতো পালন করে এসেছে তৃণমূল। এবার দল বিরোধী আসনে। তার উপর দলে আড়াআড়ি ফাটল। তাহলে শহিদ দিবস পালন করবে কোন তৃণমূল—নব্য না আদি?
_এ প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, “২১ জুলাই বিশেষ দিন। প্রতি বছর পালন করা হয়। এবারও হবে। ধর্মতলাতেই হবে। আইন মেনেই হবে। সাম্প্রতিক অতীতে যোগাসনের জন্য সাত দিন রেড রোড বন্ধ থাকে। তাই শহিদ তর্পণ ব্যতিক্রমী দিন হিসেবে ধর্মতলায় পালন করতে দেওয়া উচিত। ২১ জুলাই নিয়ে বিপুল সাড়া আছে। মানুষ বলছেন তারা বেইমান নয়। জেদের কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন।”
_তিনি যোগ করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে কয়েকজন ব্যক্তিস্বার্থে গেছে। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি আমন্ত্রণ করেছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিভাবকের মতো দেখছেন। ‘আমরা বেইমান নই’—এটা পোস্টারে রেখেছি। যারা গদ্দারি করছেন তারাই বেইমান। কয়েকজন কুনকি হাতির ভূমিকা পালন করছেন।”
প্রাক্তন কাউন্সিলরের দলত্যাগ প্রসঙ্গে:
_তারাতলার ঘটনার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে দল ছাড়েন। তিনি বলেন, “মনটা সত্যি ভারাক্রান্ত। একের পর এক ঘটনায় যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস ও জোড়াফুল জড়িয়ে পড়ছে তা দেখা যায় না, বিশ্বাস করাও কঠিন। তারাতলায় গত ৪৮ ঘণ্টায় যা ঘটল তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, নিন্দনীয়। আমি যে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছি কলকাতা পুরসভায়, সেই দলের গাফিলতিতে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন তৎকালীন মহানাগরিকের স্বাক্ষর করা নকশা ত্রুটিপূর্ণ। তার জেরেই এতগুলো নিরীহ মানুষের প্রাণ গেল। এই ব্যথা সহ্য করা যায় না। তাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, তৃণমূল কংগ্রেস আর করা যাবে না।”
_উল্লেখ্য, দলত্যাগের আগে নিউটাউনের পাঁচতারা হোটেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ডাকা বৈঠকে হাজির ছিলেন বিশ্বরূপ। তারপরই তারাতলার ঘটনা।
_বিশ্বরূপ দে প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, “বিশ্বরূপ দে ওদিকে গিয়েছিলেন, আবার কাল আমাদের কাছেও এসেছিলেন। তারাতলা নিয়ে যে অভিযোগ, সে তো বালিশ তৃণমূলে গেছে।”