ডক্টরস ডে-তে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, পটাশপুর হাসপাতালের তরুণ চিকিৎসকদের সম্মান জানাল শ্রীরামপুর হরপ্রসাদ হাইস্কুল
পটাশপুর, পূর্ব মেদিনীপুর: ডক্টরস ডে-তে একটু অন্যরকম ভাবনা। প্রথাগত অনুষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে তরুণ চিকিৎসকদের সম্বর্ধনা জানাল পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর-২ ব্লকের শ্রীরামপুর হরপ্রসাদ হাইস্কুল। বুধবার, ১ জুলাই ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে পালিত ডক্টরস ডে-তে বিদ্যালয় ছুটির পর পটাশপুর গ্রামীণ হাসপাতালে গিয়ে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এদিন দুপুরে স্কুলের শিক্ষকরা দল বেঁধে পৌঁছে যান পটাশপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে কর্মরত চারজন তরুণ চিকিৎসকের হাতে মেমেন্টো, ফুলের তোড়া, পেন ও চকলেট তুলে দিয়ে সম্মান জানানো হয়। বাদ যাননি সেবিকারাও। কর্তব্যরত নার্সদের হাতেও পেন ও চকলেট দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শিক্ষকরা।
সম্বর্ধনা পেয়ে আপ্লুত হাসপাতালের তরুণ চিকিৎসকরা বলেন, “সাধারণত রোগী বা সরকারিভাবে সম্মান পাই। কিন্তু স্কুলের শিক্ষকরা এসে এভাবে সম্মান জানাবেন, ভাবিনি। এতে কাজের উৎসাহ আরও বাড়ল। সমাজের সব পেশার মানুষ যে আমাদের পাশে আছেন, এটা বড় পাওনা।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষক দেবাংশু দাস বলেন, “ডাক্তার ও শিক্ষক — দুজনেই সমাজ গড়ার কারিগর। একজন শরীর সুস্থ রাখেন, আরেকজন মন। এই দুই পেশার মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলে সমাজের আলো আরও বেশি করে বিচ্ছুরিত হবে।” তিনি আরও বলেন তরুণ ডাক্তাররা প্রত্যন্ত এলাকায় এসে যেভাবে পরিষেবা দিচ্ছেন, তাঁদের উৎসাহ দিতেই বিদ্যালয়ের এই ছোট্ট প্রয়াস।”
শ্রীরামপুর হরপ্রসাদ হাইস্কুলের পক্ষ থেকে এদিন উপস্থিত ছিলেন দেবাংশু দাস, সুদীপ্ত গুড়িয়া, স্বপন দোলুই, দেবাশিস জানা, আশিস রাউল, তপন জানা, রিংকু প্রসাদ মণ্ডল, সঞ্জীব আড়ি, দেবাশিস রায় এবং কবি-শিক্ষক মানস কুমার মাইতি-সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা।
হাসপাতালের ডাক্তারবাবুরা স্কুলের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “ডক্টরস ডে-তে আমরা অনেক শুভেচ্ছা পাই। কিন্তু শিক্ষকরা সময় বের করে হাসপাতালে এসে আমাদের সম্মান জানালেন, এটা আমাদের কাছে বিশেষ দিন হয়ে রইল। এতে ডাক্তার-শিক্ষক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।”
ডক্টরস ডে-তে শুধু শুভেচ্ছা বিনিময় নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার বার্তাই দিয়ে গেল পটাশপুরের এই স্কুল। চিকিৎসক ও শিক্ষকদের মেলবন্ধন যে সুস্থ সমাজ গড়ার অন্যতম ভিত্তি, সেই কথাই ফের মনে করিয়ে দিল শ্রীরামপুর হরপ্রসাদ হাইস্কুলের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।