প্রেমের সম্পর্কে ভাঙন মানতে না পেরে তরুণীকে অপহরণ করে ‘সহমরণ’-এর ছক কষেছিলেন যুবক। কিন্তু চলন্ত উবার ক্যাব থেকে লাফিয়ে প্রাণে বাঁচলেন তরুণী। আর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিকট বিস্ফোরণে গাড়ির ভিতরেই পুড়ে ছাই হয়ে গেলেন অভিযুক্ত নাগেন্দ্র। কর্নাটকের তুমাকুরু জেলার এই ঘটনায় শনিবার সকাল থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সম্পর্কের তিক্ততা থেকে অপহরণ:-
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম নাগেন্দ্র। তরুণীর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি বিচ্ছেদের পর দুজনের মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য শুরু হয়। তরুণী নাগেন্দ্রর ফোন নম্বর ব্লক করে দেন। এরপরই প্রতিশোধ নিতে শনিবার সকালে তরুণীকে জোর করে হলুদ নম্বরপ্লেটের একটি উবার ক্যাবে তোলেন নাগেন্দ্র। গাড়ি ছোটে আঙ্কোলার দিকে। এদিকে মেয়ের খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা জয়নগর থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন।
চলন্ত গাড়িতে ছুরি নিয়ে হামলা:-
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, যাত্রাপথে নাগেন্দ্র বারবার তরুণীকে খুন করে নিজেও আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছিলেন। এমনকি নিজের কাছে থাকা বিস্ফোরকের মতো একটি বস্তুও তরুণীকে দেখান তিনি। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয় যখন চলন্ত ক্যাবের মধ্যেই ছুরি বের করে তরুণীর ওপর চড়াও হন নাগেন্দ্র। আতঙ্কিত ক্যাবচালক সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে দেন। সেই সুযোগেই দরজা খুলে বাইরে ঝাঁপ দেন তরুণী।
চোখের নিমেষে বিস্ফোরণ :-
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশেষ সূত্রে খবর, তরুণী গাড়ি থেকে বেরনোর ১০-১২ সেকেন্ডের মধ্যেই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। মুহূর্তে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায় ক্যাবে। গাড়ির ভিতরেই আটকে পড়েন নাগেন্দ্র। স্থানীয়রা ছুটে এলেও আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কেউ কাছে যেতে পারেননি। দমকল আসার আগেই সম্পূর্ণ পুড়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
কী বলছে পুলিশ:-
তুমাকুরুর পুলিশ সুপার অশোক কেভি জানিয়েছেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে নাগেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবেই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। গাড়ির ভিতর থেকে বিস্ফোরক-সদৃশ কিছু সামগ্রী ও একটি জ্বলন্ত ডিভাইসের অংশ উদ্ধার হয়েছে।” ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নমুনা সংগ্রহ করেছে। কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল, তা কোথা থেকে জোগাড় হল এবং নাগেন্দ্র একাই এই পরিকল্পনা করেছিলেন কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তরুণী নিরাপদে, ট্রমায় পরিবার:-
আক্রান্ত তরুণী সামান্য আহত হলেও বর্তমানে নিরাপদে রয়েছেন। তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে চোখের সামনে এমন ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।
পুলিশ একটি খুন, অপহরণ ও বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলে দিল—বিচ্ছেদের জেরে প্রতিহিংসা কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।