ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার নিয়েছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। একইসঙ্গে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলার দাবি করেছে তেল আবিব।
আইডিএফ জানিয়েছে, শনিবার রাতেই লেবাননের অভ্যন্তরে অন্তত ৭০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার, রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও কমান্ড সেন্টার।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, লেবাননের প্রায় পাঁচভাগের একভাগ ভূখণ্ড এখনও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থল অভিযানও জারি রেখেছে আইডিএফ।
চলমান এই সংঘাতে লেবাননে এখন পর্যন্ত ৩,৭০০-এরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকের সংখ্যাই বেশি। হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শত্রু বিমান অনুপ্রবেশের সতর্কবার্তা দিয়ে রবিবার ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে সন্দেহজনক দুটি আকাশপথে আসা বস্তুর আঘাত শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পৃথকভাবে আইডিএফ দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে লেবানন থেকে ছোড়া সন্দেহভাজন তিনটি ড্রোন পৃথক ঘটনায় উত্তর ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে । ড্রোনগুলি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, *ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত ও পর্যালোচনা চলছে*। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই সংঘাতের মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। জানানো হয়েছে, খামেনির জানাজা আগামী ৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে এবং ৯ জুলাই মাশহাদে তাঁকে দাফন করা হবে। তাঁর মৃত্যুর কারণ বা পরিস্থিতি নিয়ে এখনও বিস্তারিত জানায়নি তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই ঘোষণা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাসপাতাল, স্কুল ও আশ্রয়কেন্দ্রে হামলার অভিযোগ উঠেছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহল দুই পক্ষকেই সংযম দেখানোর আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির কোনো লক্ষণ নেই। বরং দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে।